পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর সংক্ষিপ্ত ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এবং প্রভাবশালী গবেষণা ও নীতি নির্ধারণকারী সংস্থার নেতাদের সঙ্গে ব্যস্ত ও ফলপ্রসূ সময় কাটিয়েছেন। এই সফরের বৈঠকগুলোতে কূটনীতিক ও ব্যবসায়িক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে একটি শক্ত 기반ে উন্নীত করার বিষয়ে বির্তকহীন সম্মতি দেখা গেছে।
সোমবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই দিনে তিনি ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন; উভয় প্রতিষ্ঠানই আন্তর্জাতিক নীতি ও গণতান্ত্রিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্ব বহন করে। এছাড়া তিনি মার্কিন ব্যুরো অব সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স (এসসিএ)-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন।
বৈঠকগুলোতে শামা ওবায়েদ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের লক্ষ্যগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।” তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটকে গুরুত্ব দিয়ে এই সরকার উন্নয়ন ও বহুমুখী নীতির ওপর কাজ করবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্কিন কর্মকর্তাদের জানান বাংলাদেশের উন্নয়ন নীতি ও বৈদেশিক নীতির প্রধান দিকগুলো এবং দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো। তিনি বলেন, “বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভিত্তি শক্ত হয়েছে। বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে কূটনৈতিক পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।”
শামা ওবায়েদ ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে ব্যাখ্যা করে বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থ নজিরবিহীনভাবে সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিএনপি সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার নীতি খুব পরিষ্কার — যে কোনো বিষয়ে প্রথমে এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ। জনগণের কাছে এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে এবং এ অবস্থান থেকে সরকার সরবে না।”
শামা ওবায়েদের এই সফরের পর কর্তৃপক্ষ ও অংশগ্রহণকারীরা আশাভাজন যে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নীতিগত সমন্বয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও নীতি সংলাপ আরও প্রসারিত হবে বলে দাবি করেন তিনি।








