ঢাকা | শুক্রবার | ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র সচিবালয়ের পথে বাধা পড়েনি: বিএনপি

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেছেন, পৃথক সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সব দরজা বন্ধ হয়ে গেছে—এই ধারণা সঠিক নয়। বুধবার (২০ মে) এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। যেসব জুডিশিয়াল অফিসার সুপ্রিম কোর্ট সেক্রেটারিয়েটে ছিলেন, তাদের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিএনপির ব্যাখ্যায় এটি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কারণ, ওই অর্ডিন্যান্সটি এখনও আইনভুক্ত হয়নি এবং সংসদে পাসও হয়নি; তাই তারা ওই কাঠামোয় কাজ করতে পারছিলেন না—ফলশ্রুতিতে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের মন্ত্রণালয়ে অ্যাটাচড করা হয়েছে এবং পরে বিভিন্ন স্থানে পোস্টিং দেয়া হবে।

বদরুদ্দোজা বাদল জোর দিয়ে বলেন, ‘‘এর মানে এই নয় যে, সেপারেট সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বিএনপির যে মূল বক্তব্যগুলো রয়েছে—যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সেপারেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত—সেগুলো এখনও রয়ে গেছে এবং বিএনপি বড় স্টেকহোল্ডার হিসেবে এই বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে আসছে।’’

তিনি আরও বলেন, পূর্বে যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তাতে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি ছিল না। ফলে দলটির জোরালো বক্তব্যগুলো সেখানে তুলে ধরা হয়নি এবং এজন্য বিএনপি মনে করছে যে ওই অর্ডিন্যান্সটি পর্যাপ্ত ও ব্যাপক (কমপ্রিহেনসিভ) ছিল না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিএনপি পরবর্তীতে সংসদে এটি একটি কমপ্রিহেনসিভ বিল হিসেবে উপস্থাপন করবে যাতে সেটি পরিপূর্ণ কার্যকারিতা লাভ করে এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ না থাকে। তিনি বলেন, এ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করারও প্রয়োজন নেই।

আদালত অবমাননার বিষয়টি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ‘‘আদালত অবমাননার কিছু নেই। বিষয়টি এখনো সংসদে পাস হয়নি। বিএনপি কখনো বলেইনি যে তারা আর এ কাজ করবে না; এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এমনভাবে বিল আনা হবে যাতে পরে এ নিয়ে কোনো বিতর্ক বা সমালোচনার সুযোগ না থাকে।’’

ব্রিফিংয়ে তিনি পুনরায় আশা প্রকাশ করেন যে ওপরোক্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথক সচিবালয়ের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সুষ্ঠু সমাধান আসবে।