নবম জাতীয় পে স্কেলের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সভা সন্ধ্যেয় শেষ হয়েছে। বুধবার (২১ মে) সচিবালয়ে এই বৈঠক শুরু হয় এবং দুপুরে শেষ করা হয়। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতো। তবে কিছু কাটছাঁটের মাধ্যমে এই অঙ্ক কমে এসেছে এবং এখন আনুমানিক ৩৭ হাজার কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনা করে চাকরিজীবীদের মধ্যে নিচের দুটি স্তরের বেতন ও সুবিধা বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে কম সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনের হার শতভাগের কাছাকাছি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এভাবেই এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সরকার এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু করবে আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে, যারা বিভিন্ন বিভাগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এই স্কেলের আওতায় আসবে। এদিকে, গত সোমবার (১৮ মে) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কঠিন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে খরচ কাটা হচ্ছে, তবে নতুন বেতন কাঠামো প্রকল্পটি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সরকারের বোঝাপড়া অনুযায়ী, মূল সুপারিশগুলো কাটছাঁট করে পুরো প্রকল্পটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিয়ষে সর্বজনীন পেনশনের প্রসার ও বৃদ্ধির কথা থাকলেও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০ হাজার টাকার কম মাসিক পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ বা শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব; যেখানে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে যারা পেনশান পাবেন, তাদের জন্য বৃদ্ধির হার প্রায় ৭৫ শতাংশ। এছাড়াও, ৭৫ বছরের বেশি প্রবীণ পেনশনের ভরণপোষণ ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন পে স্কেলের সঙ্গে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডও অপরিবর্তিত থাকবে। সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ অনুমোদন পাচ্ছে। এভাবে, সরকার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জনগণের সুবিধা বাড়ানোর জন্য এই আধুনিক পে-স্কেল চালু করতে যাচ্ছে।








