ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা ওই ঘাঁটিটিকে নিখুঁতভাবে নিশানা করেছে এবং এটি বন্দর আব্বাসে গতকাল সংঘটিত মার্কিন বায়ুবাহিত আগ্রাসনের উৎসস্থল হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তবে আক্রান্ত ঘাঁটিটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা কোন দেশে সেটি অবস্থিত তা তেহরান এখনও প্রকাশ করেনি।
এই হামলা ওই অঞ্চলে গত রোববারের পর থেকে তীব্র দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনার ধারাবাহিকতার অংশ। বুধবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে প্রথম দফা গোলাগুলি শুরু হলে পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে। সামরিক সূত্র বলছে, আইআরজিসি নেভি একটি মার্কিন তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর সরাসরি গুলি চালায়—তারা অভিযোগ করেছে ওই জাহাজটি রাডার বা এআইএস বন্ধ রেখে বেআইনিভাবে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল।
এরপর মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী বন্দর আব্বাসের কাছে একটি নির্দিষ্ট পরিত্যক্ত এলাকায় ব্যাপক বিমানবাহিত হামলা চালায়। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই বোমাবর্ষণে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ভৌত ক্ষতি ঘটেনি, কিন্তু বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয়রা ভীত হয়ে পড়েন এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের উদ্ধৃত এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, বুধবারের ওই অভিযান ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক’ ভিত্তিক। মার্কিন দাবি অনুযায়ী, তারা হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের চারটি ড্রোন মাঝ আকাশে ভূপাতিত করেছে এবং বন্দর আব্বাসের কাছাকাছি একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে আঘাত করে পঞ্চম একটি আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস করেছে, যা উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই ব্যবস্থা ছিল পরিমাপিত এবং মূলত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়।
একই ঘটনায় সমুদ্রসীমায় আরও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে—চারটি অজানা নৌযান পারস্য উপসাগরে কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রবেশের চেষ্টা করলে ইরানি নৌবাহিনী প্রথমে তাদের চলে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেয়। নির্দেশ উপেক্ষা করলে আইআরজিসি নেভি সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করে এবং শেষ পর্যন্ত সেই নৌযানগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এই সামরিক পাল্টাপাল্টি পরিস্থিতি দোহায় চলমান শান্তিচর্চা জটিল করে তুলেছে। ওয়াশিংটনে এক ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছে যে তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে চিন্তা না করে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তিচুক্তি করতে চান; পাশাপাশি স্পষ্ট করেছেন ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে দেয়া হবে না এবং হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে—এই শর্তগুলো তার ভাষ্যে অটল।
মাঠে সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক আলোচনার এই মিলিত ছবি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। দুই পক্ষই একে অপরের উপর দায় চাপাচ্ছে এবং হতাহতের খবর না পাওয়া সত্ত্বেও অচিরেই পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।







