ঢাকা | সোমবার | ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানে যাওয়া ছিল বড় ভুল: ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অতীত সামরিক হস্তক্ষেপগুলোকে তীব্র সমালোচনা করে এগুলোকে ‘চরম বোকামি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাগদাদে সেনা মোতায়েন বা ইরানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা মোটেই উচিত ছিল না। ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ভয়াবহ পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সেখানে অকারণে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। শুরু থেকেই এসব সংঘাতে জড়ানোকে তিনি কৌশলগতভাবে বড় একটি ভুল বলছেন।

ইরান সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে বর্তমান সময়ের পরিকল্পনায় ততটা ব্যাপক মার্কিন উপস্থিতির প্রয়োজন ছিল না। তবুও তিনি গত নয় মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে করা হামলার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, যদি সেই সময় অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হত তাহলে ইরান সম্ভবত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক শক্তি অর্জন করত, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যেত এবং ইসরায়েলের অস্তিত্বও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারত। তাই ঐ নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপটি তিনি ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে যুক্তিসঙ্গত বলেছেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প একটি চমকপ্রদ কৌশলগত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পুরো সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর কিছু অংশকে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে বিবেচনা করেছে, ফলে তাদের ওপর সর্বাত্মক আঘাত হানার পরিবর্তে মূল কট্টর নেতৃত্বকে টার্গেট করা হয়েছে। তাঁর যুক্তি, যদি পুরো বাহিনী ধ্বংস করা হতো তাহলে একটি দেশের পুনর্গঠন করতে ৪০ বছর সময় লাগতে পারে—এমন কোনো পরিস্থিতি তিনি ইরানের জন্য চাননি। এই কারণেই তিনি সামরিক কৌশলে অভিসংরক্ষণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক আঘাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দরবারে নতুনভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর নির্বিচারী ও বিস্তৃত হস্তক্ষেপের ফলেই যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চ মূল্য দিতে হয়েছে। তৎকালীন ঢালাও যুদ্ধ ও ব্যাপক ধ্বংসের বদলে তিনি নিয়ন্ত্রিত, কৌশলগত পদক্ষেপ ও নেতৃত্ব বদলের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির চিত্র উঠে এসেছে।

সংক্ষিপ্ত করলে, ট্রাম্প দাবি করেছেন তাঁর সময়ের সামরিক কৌশলগুলো ছিল সুপরিকল্পিত এবং তা দীর্ঘমেয়াদী বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তিনি চান যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কম জড়িত থাকুক এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারুক, তবে প্রয়োজনে কৌশলগত সামরিক শক্তির ব্যবহারও তাঁর নীতির একটি অংশ থাকবে।