ঢাকা | বুধবার | ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ডা. শফিকুর রহমান: অন্তর্বর্তী সরকার জাতির সঙ্গে ইনসাফ করেনি

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, যদি তারা ন্যায্যতা বজায় রাখত, তবে দেশের বর্তমান চিত্র অনেক আলাদা হতো।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জামায়াতের ‘ছায়াবাজেট’ উপস্থাপনের সময় ডা. শফিকুর মুখে এই অভিমত প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানান এবং সম্ভাব্য реформের নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, গত নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ জায়গায় সাধারণত সুষ্ঠু হলেও, ফলাফলগুলো জনগণের প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটায়নি। ‘‘ভোটিং সুষ্ঠু হলেও ফলাফল সুষ্ঠু হয়নি’’—এ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনি পদ্ধতির স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের ওপর সন্দেহ উত্থাপন করেন।

বাজেট প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর বলেন, যে বাজেটই না দেন, তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সততা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘‘সততা ও জবাবদিহিতা না থাকলে সরকারের দেয়া বড়সড় বাজেটও বাস্তবে কিছুই করবে না।’’

তিনি বর্তমান করব্যবস্থা বা ট্যাক্সেশন প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা নানা ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এসব দুর্বলতা দূর করা না হলে রাজস্ব ব্যবস্থাকে কার্যকর ও জনবান্ধব করা সম্ভব নয়। ফলে রাজস্ব সংগ্রহে স্বচ্ছতা, সহজলভ্যতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও জানান, তার দল সংসদে অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। তিনি বলেন, এতে বাজেট বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনা কৌশল আরও সুসংহত হবে।

বাজেটের বিচারক হিসেবে সর্বশেষে জনগণকে আখ্যায়িত করে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘আমরা যে প্রস্তাবনা দিচ্ছি, তার সঠিক বিচার করবেন সাধারণ মানুষ। যদি কোনো প্রস্তাবনা জনস্বার্থের বিপক্ষে যায়, আমরা গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানাবো এবং সহযোগিতা করবো।’’

তিনি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমাণ ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে জনগণের কল্যাণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে—এ কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. শফিকুরের বক্তব্যে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, অর্থনৈতিক জবাবদিহিতা ও করব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দেখা যায়। তিনি সরকার ও সংসদকে সময়োপযোগী সংস্কার গ্রহণ না করলে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের আস্থায় ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।