ঢাকা | রবিবার | ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

বড় বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছে এফবিসিসিআই

জাতীয় বাজেট বড় হলেও তা বাস্তবায়ন যোগ্য করতে দক্ষতা ও স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই। শনিবার বাজেট পরবর্তী এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংগঠনটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘বড় হলেও বাস্তবায়নযোগ্য’ হিসেবে বর্ণনা করে।

সংগঠনের মন্তব্য, বিশ্বে অর্থ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাংলাদেশের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বিবেচনায় এই বাজেটের আকার অযৌক্তিক নয়। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ এ বাজেট সফলভাবে কাজে লাগাতে সরকারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই দৃঢ় দূরদর্শিতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এফবিসিসিআই প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধির, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার অগ্রাধিক্য রক্ষার জন্য শুভকামনা জানায়।

বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এফবিসিসিআই মনে করে, জনসাধারণের জীবনযাত্রায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই লক্ষ্য অর্জন জরুরি। তবে প্রস্তাবিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে তারা সতর্ক করে। বর্তমান অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে এই লক্ষ্য পূরণে রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য বলে সংগঠনটির পরামর্শ।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংকিং সিস্টেম থেকেই বড় অংকের ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে—এটি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এফবিসিসিআই। তাদের মতে, ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ অন্তরায় হতে পারে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই স্থানীয় ব্যাংকের ওপর অসমঅনুপাতে চাপ না বাড়িয়ে সুলভ সুদে এবং সতর্কতার সঙ্গে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন আনুষঙ্গিকভাবে বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

সংগঠনটি বাজেটে ঘোষিত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করে—‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ এর মতো উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সহজ করার লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ ২০২৬’ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সরকারের বিশেষ গুরুত্ব প্রদানে এফবিসিসিআই আশাবাদী। তাছাড়া ল্যাপটপ ও কম্পিউটার সামগ্রী আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে তারা ডিজিটাল বাংলাদেশের দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখে।

নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ এবং স্টার্টআপদের জন্য কর অব্যাহতির প্রস্তাবেরও স্বাগত জানায় সংগঠনটি। তবে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করাকে তারা স্বীকার করলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে এটি আরও বাড়ানোর দাবি করেছে। এছাড়া সর্বোচ্চ কর হার ৩৫ শতাংশের বদলে ২৫ শতাংশ করার সুপারিশও তাঁরা তুলে ধরেছে।

নির্মাণ সামগ্রী—বিশেষ করে রড—এর ওপর ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্তে নির্মাণ খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে এফবিসিসিআই। সংগঠনটি মনে করে, ঘোষিত সংস্কার ও প্রণীত নীতিমালাগুলো বাস্তবিকভাবে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এই বাজেট সফল হবে; নইলে কেবল বাজেটের পরিমাণই যথেষ্ট নয়। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করলে দেশের অর্থনীতি আরও দ্রুততর ও সমতলভাবে উন্নতি করবে।