ঢাকা | শনিবার | ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর আজ, উৎসবমুখর আবহে পালিত হচ্ছে প্রস্তুতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার সফর আজ শনিবার (১৩ জুন), যা প্রথমবারের মতো এই পর্যটন সমৃদ্ধ জেলা এলাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকাল ১০টার দিকে তিনি তার পরিবারের সদস্যসহ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজারের বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলার সব স্থান উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। জেলাজুড়ে মানুষের মধ্যে আশা-আকাংক্ষা ভরে গেছে, বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং সাধারণ জনগণের মাঝে। অনেকের মতে, এই সফর কক্সবাজারের উন্নয়নের পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হয়।

অপর দিকে, কক্সবাজার-৩ আসনের সাংসদ লুৎফর রহমান কাজল জানান, অনেক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থাপন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে – কক্সবাজার পৌরসভাকে শহর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সিটি করপোরেশনে উন্নীত, সদর হাসপাতালকে আরও ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, মহেশখালী-Cox’s Bazar সেতু নির্মাণ, পিএমখালীর পাতলী খালকে ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি খাল’ নামে নামকরণ এবং শহরের স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে উন্নীত করা।

জেলা বিএনপি দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ বদরী জানান, দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার বিশ্ব সুন্দর সমুদ্র সৈকত পর্যটনের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার জন্য নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু নির্মাণ, বাঁখালী নদীতে ড্রেজিং, সোনাদিয়া দ্বীপকে বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ পটভূমিতে উন্নীত করা ও মহেশখালী-মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি জানান তিনি।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন), চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থল পরিদর্শনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই সফরে কক্সবাজার কেন্দ্রিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে – লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত, কক্সবাজারে ব্লু ইকোনমি ও মেরিন সায়েন্স ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে পৌঁছে সম্ভাব্য অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। পেকুয়া, মাতামুহুরী, চকরিয়া এবং বিভিন্ন স্থানে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, বৃক্ষরোপণ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। বিকেলেও জনসভা, সুধী সমাবেশ এবং অন্যান্য আয়োজনে অংশ নেবেন তিনি। আর রাতের ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরবেন।

প্রস্তুতিও ব্যাপকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসন নিরাপত্তার জন্য প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে, এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকবেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যেন এই সফর সেখানকার সকল পরিকল্পনা সফল হয়।