ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চুক্তি সন্তোষজণক না হলে ইরানে পুনরায় হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নয় এবং এর বাস্তবায়নে সন্তুষ্ট না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমনকি বোমা ফেলতেও দ্বিধা করবে না। বুধবার (১৭ জুন) আল জাজিরার জন্য দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিয়েই ট্রাম্প মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাজার চুক্তি ঘোষণায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরানে বিনিয়োগ করবে না এবং উপসাগরীয় দেশগুলোকেও বিনিয়োগে উৎসাহিত করেননি—যদি ভবিষ্যতে তারা চান তবেই বিনিয়োগ করা যেতে পারে।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেছেন যে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) করার সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানকে ১.৭ বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ ‘বেতন’ হিসেবে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পুনর্গঠন তহবিল দেবে না এবং বর্তমানে কোনো বিনিয়োগ পরিকল্পনা নেই। শেষ পর্যন্ত তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি চুক্তি অনুযায়ী আচরণ না করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

একই সঙ্গে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে যে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি দেখতে ইসরায়েল অনুরোধ করেছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে—এমনটি জানিয়েছে তুর্কি সংবাদ’agence আনাদোলু, ইস্রায়েলের চ্যানেল ১২-কে উদ্ধৃত করে। চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইসরায়েল এখনও চুক্তির পূর্ণ বিবরণ জানে না, যা আগামীকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এই তথ্য নিয়ে বিভেদও রয়েছে। আনাদোলুকে এক অনামিকা সূত্র জানিয়েছে, তেল আবিব সম্ভবত ওয়াশিংটনের কাছে কোনো আকাংক্ষিত অনুরোধই করেনি। অন্যদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা রিপোর্টটিকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, আলোচনার সব পর্যায়ে ওয়াশিংটন তার আঞ্চলিক অংশীদারদের, বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখেছে।

ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি চুক্তির নথিটির ‘প্রতিটি শব্দ’ নিজে যাচাই করবেন, কিন্তু কখন বা কোনো অংশ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা দেননি। চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, এখনো স্মারক সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো পাঠ প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইরানি মিডিয়ার একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে স্মারকটিতে মোট ১৪টি ধারা রয়েছে।

ইরানি নিউজসাইটগুলোর তথ্যে ওই ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠে ফেলা, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন—তবে এসব তথ্য এখনও স্বতন্ত্রভাবে যাচাইযোগ্য কাগজে প্রকাশিত হয়নি।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তিটি জেনেভায় শুক্রবার স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এ মুহূর্তে ওয়াশিংটন বা তেহরান কেউই সম্মতিপত্রের পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করেনি, ফলে চুক্তির সঠিক পরিধি ও বাস্তব প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।