ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি সংসদে পাশ করতে হবে: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংখ্যানুপাতিক (প্রতিনিধিত্বমূলক) নির্বাচন পদ্ধতিসহ জাতীয় নির্বাচনে যেসব পরিবর্তন আনার প্রয়োজন, তা অবশ্যই জনগণের মতামত নিয়ে সংসদের মাধ্যমে পাশ করতে হবে। তিনি বলেন, সংসদ ছাড়া কেউ এই পরিবর্তন আনতে পারবে না।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘লিয়াজঁ কমিটি’র বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আমীর খসরু।

তিনি জানান, ‘‘সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের বিষয়টি সময়ের দাবি। তবে এটি আগামী সংসদে নিয়ে গেলেই বাস্তবায়ন সম্ভব। আমরা প্রেসিডেন্সিয়াল থেকে সংসদীয় ব্যবস্থা পরিবর্তনের সময়ও সব দল ঐকমত্যের মাধ্যমে সংসদে তা অনুমোদিত করেছিল। সেই দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে নির্বাচন সংশোধনের ক্ষেত্রে জনগণের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘যে কোনো মৌলিক পরিবর্তন জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সম্মতিতে করতে হয়। তাই সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য আগামী নির্বাচনে যে সরকার আসবে, তাকে সংসদে এটি পাশ করাতে হবে। এখনই এই বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত বা আলোচনার পর্যায়ে আসা যায় না।’’

সংস্কারে ঐকমত্য বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে যেমন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, দুইবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না ইত্যাদি। সবাইকে মনে রাখতে হবে সব বিষয়ে ঐকমত্য হওয়া সম্ভব নয়।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা কোনো বাকশালের পক্ষে নেই। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, সেগুলো ঐক্যমত্যের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে, আর যেগুলো হবে না, সেগুলো দলগুলোকে জনগণের কাছে গিয়ে মতামত নিয়ে নিতে হবে।’’

লিয়াজঁ কমিটির বৈঠককে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করে আমীর খসরু বলেন, ‘‘জুলাই-আগস্টের দেড় দুই মাসের আন্দোলনের আগে যারা দীর্ঘকাল সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিয়োজিত ছিলেন, আমরা তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। এই ঐক্য শুধু নির্বাচন নয়, ৩১ দফা সাংগঠনিক সংস্কারের যে আলোচনাই হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছি। নির্বাচনের পর যদি জনগণ আমাদের অনুমোদন দেয়, তবে সবাই মিলে এগুলো বাস্তবায়িত করব।’’

তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাতে প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’’

বৈঠকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুও উপস্থিত ছিলেন।