ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ভূল তথ্য ও মিথ্যা সংবাদই আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ: অধ্যাপক ইউনূস

জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং নৈতিকতা বজায় রেখে গণমাধ্যমকে সমর্থন করতে হবে। বুধবার (২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কোর কার্যালয় প্রধান ও ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ এবং ইউনেস্কোর সাংবাদিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী বেনচেলাহ।

ইউএনডিপি এবং ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমের অবস্থা: মুক্ত, স্বাধীন ও বহুমাত্রিক গণমাধ্যমের উপর গুরুত্বারোপ’ শীর্ষক একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশের আগে প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই প্রতিবেদনের জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলেও জানান।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং মিথ্যা সংবাদ। এ ধরনের তথ্যের কিছু ভাগ বহির্গত উৎস থেকে ছড়িয়ে দেয়া হয়, সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় কিছু মানুষও। এটা এক প্রকার ধারাবাহিক তথ্য বাতাস।”

তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নয়, নিয়মিত গণমাধ্যমেও বিভ্রান্তির উৎস রয়েছে। এই অবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “জাতিসংঘ শুধু সরকারের সঙ্গে নয়, গণমাধ্যম দলের সঙ্গেও কথা বলুক।” তিনি বলেন।

স্বাধীন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো গণমাধ্যম যদি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে, তাকে মনে করিয়ে দিতে হবে যে তারা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, “আপনারা জাতিসংঘ। আপনারা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে উচ্চ সহযোগিতামূলক শক্তি হিসেবে বিবেচিত, আপনাদের সমর্থন আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক।”

তিনি উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে কী কাজ করছে, কী হচ্ছে না, তা যথাযথ বিশ্লেষণসহ আন্তর্জাতিক মানের সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। এই মান বজায় রাখতে কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য এবং বিচার বিভাগের কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।

ইউনেস্কোর সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী বেনচেলাহ সংবাদকর্মীদের কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা সম্পর্কেও প্রতিবেদনে সুপারিশ দেখিয়েছেন, যা বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ দেশে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি ইউএনডিপির ‘প্রতিষ্ঠান, নীতি ও সেবার সক্ষমতা উন্নয়ন (এসআইপিএস)’ প্রকল্পের আওতায় এবং মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যম উন্নয়নে ইউনেস্কোর দায়িত্বের মানসিকতা অনুসারে তৈরি করা হয়েছে।