ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধান উপদেষ্টা ও সিইসির বৈঠকের পর বিএনপি চায় নির্দিষ্ট নির্বাচনের সময়সূচি

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এন নাসির উদ্দীনের বৈঠকের পর বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করার প্রত্যাশা করছে। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘‘আমরা আশাবাদী যে, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ ও সময়সূচি ঘোষণায় জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা যথার্থভাবে প্রতিফলিত হবে।’’

শনিবার (২৮ জুন) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধান উপদেষ্টা ও সিইসির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর বিএনপি একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনের তারিখের আশা জাহির করায় রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

রিজভী আরও বলেন, ‘‘আমরা অবশ্যই নির্দিষ্ট নির্বাচনের তারিখের ঘোষণা আশা করছি।’’ গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সিইসি নাসির উদ্দীন, যা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি জানান, দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলসমূহ নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার ও সময়সীমা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করছেন, যেখানে নির্বাচনের সময়সীমা নির্ধারণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জনগণ বিশ্বাস রাখে যে অধ্যাপক ইউনূস ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের কল্যাণ এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

বিএনপির এই নেতার কথা মতে, প্রধান উপদেষ্টা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন, যাতে সবাই তাদের জবাবদিহিমূলক প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে পারেন।

বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘‘আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলোকে অগ্রাহ্য করা যাবেনা। মব কালচারসহ নানা অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হবে এবং প্রকৃত গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে। গত বছরের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.২ শতাংশ, যা এই বছর ৩.৯ শতাংশে নামে। আমরা সরকারের কাছে দাবি রাখি যে তারা এই পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। আমরা অবশ্যই নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সীমায় নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে আছি এবং দ্রুত নির্বাচন কমিশন একটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে বলে প্রত্যাশা করি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আগের অগণতান্ত্রিক সরকার দেশের অর্থ ও সম্পদ লুট-পাট করেছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে, যার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশন ও মিডিয়াও রয়েছে। তারা কখনো প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র চায়নি। জনগণ আশা করে ড. ইউনূস দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী শুদ্ধ ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’’