ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সালাহউদ্দিনের আবেদন: ইসি নিশ্চিত করুন অধ্যাপক ইউনূস ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের বার্তা দিয়েছেন কিনা

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি স্পষ্টতা আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির বিষয়টি সিইসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন কিনা।

গুলশানের নিজ বাসভবনে শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘‘আমরা গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি, সিইসি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। লন্ডনের বৈঠকের পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল, প্রধান উপদেষ্টা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এবং রমজান শুরুর আগে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ তথ্য দেবেন।’’

গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) অধ্যাপক ইউনূস ও সিইসির বৈঠকেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘আমরা আশাবাদী যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় কিংবা নির্বাচন কমিশন এ বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘সবার ধারণা প্রধান উপদেষ্টা ইতিমধ্যে এই বার্তা সিইসির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে তা নিশ্চিত নয়। উভয় পক্ষ যদি বিষয়টি স্পষ্ট করেন, তাহলে সকলেই আশ্বস্ত হতে পারব।’’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে বলেছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ক্রয় প্রক্রিয়া ও অন্যান্য প্রস্তুতি শেষ হবে। ভোটার তালিকাও হালনাগাদ হয়েছে, শুধু সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে যা তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন সম্ভব। তফসিল ঘোষণার পর পোলিং অফিসার নিয়োগ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও প্রশিক্ষণ দেওয়া এসব কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং এর জন্য বিশেষ প্রস্তুতি জরুরি হবে না।’’

ফের তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি রাজনৈতিক দলগুলোর হলেও এটি কার্যকরী নয়। ‘‘বেশিরভাগ দল প্রধান উপদেষ্টার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে একমত।’’

তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কম সময়ের মধ্যে ব্যয়বহুল হবে এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কঠিন হবে। তাই এখন জাতীয় নির্বাচনে মনোযোগ দেওয়া উচিত।’’

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘‘আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে বিশ্বাসী। আমাদের লড়াই ভোটাধিকারের জন্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নয়। এখন নির্বাচন কমিশনের দরকার জনগণের আশা পূরণ করে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।’’