ঢাকা | রবিবার | ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

দশ বছরে সর্বোচ্চ পতনে বৈশ্বিক স্বর্ণের দাম

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম গত এক দশকে দেখা সবচেয়ে বড় পতন ঘটিয়েছে। গত কাট্টাল মঙ্গলবার লেনদেন শুরু হওয়ার পর প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় 3,942.99 ডলার — যা গত নভেম্বরে রেকর্ডকৃত স্তরের পর ন্যূনতম। এর আগে বছরের শুরুতে খুচরা চাহিদার জোরে স্বর্ণের দাম এক দিক দিয়ে রেকর্ড 5,595 ডলারে ওঠে; এরপর তিন মাসে সে দাম প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে।

মার্কেট বিশ্লেষকরা বলছেন, এ শ্লথতার পেছনে কয়েকটি কারণ মূল ভূমিকা রেখেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন প্রধান কেভিন ওয়ারশ যখন সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন — তখন বিনিয়োগকারীরা এমন একটি ধাতুতে রাখা পুঁজি পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করেন, যেখান থেকে নিয়মিত কোনো লভ্যাংশ বা কুপন আসে না। ফলে সরকারি বন্ডের মতো আয়দায়ী বিকল্পে টাকা সরানোর প্রবণতা বাড়েছে।

সাথে সাথেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার নিয়ে আশঙ্কা বাড়ায় অনেক বিনিয়োগকারী ঝুঁকি কমাতে স্বর্ণ বিক্রি করছেন। এছাড়া প্রযুক্তি ও স্পেস কোম্পানিদের সম্ভাব্য আইপিও—র মতো ঠিকানায় পুঁজি সাজানোর আগ্রহ বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণবাজার থেকে অংশ তুলে নিচ্ছেন।

এদিকে স্বর্ণের ইটিএফ তহবিল থেকে বড় পরিমাণ টাকা প্রত্যাহার এবং চীনে খুচরা গ্রাহকদের জন্য ফিউচার ট্রেডিংয়ে নতুন কড়াকড়ি আরোপে বাজারে অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে। এই সব কারণ একসঙ্গে কাজ করায় স্বর্ণে আগের কালের তুলনায় তীব্র দরপতন দেখা গেছে।

সংক্ষেপে, সুদের হার বাড়ানোর ঐকান্তিক প্রত্যাশা, বিনিয়োগকেন্দ্রিক পরিবর্তন এবং বাজারে তরলতা সংকোচনের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের মূল্য সংকোচনের মুখে পড়েছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে সুদবাজার ও জ্বালানি শোধবাণিজ্যের গতিপ্রকৃতির উপরই স্বর্ণের মূল্যস্ফীতি-প্রবণতা নির্ভর করবে।