ঢাকা | শুক্রবার | ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৫শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

অস্তিত্বহীন এআই ‘নায়িকা’ টিলি নরউড রূপালি পর্দায়

হলিউডের বিতর্কিত এআই ‘অভিনেত্রী’ টিলি নরউড এখন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে দেখা যাবে—যারা জানেন না তাদের জন্য তা অদ্ভুত শোনা গেলেও টিলির কোনো ভৌত শরীর নেই। এআইভিত্তিক স্টুডিও পার্টিকল ৬ ঘোষণা করেছে, তারা ‘‘মিসঅ্যালাইন্ড’’ নামের একটি কমেডি-ড্রামা নির্মাণ করবে এবং মূল চরিত্রে থাকবে টিলি। ছবিতে কৈশোর, আত্মপরিচয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জটিল সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গল্প এগোবেই।

বিনোদনমাধ্যম ভ্যারাইটির বরাত দিয়ে জানা গেছে, সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হবে ‘টিলিভার্স’ নামের একটি পরাবাস্তব ডিজিটাল জগতে। সেখানে ক্লাউডের কোনো এক কোণে অবয়বহীনভাবে বসবাস করে টিলি—তার নিজস্ব শরীর, ব্যক্তিগত স্মৃতি বা শৈশবের অনুভূতি নেই। তবে অন্যের অভিজ্ঞতার ভেতরে প্রবেশ করার একটি বিশেষ ক্ষমতা তার আছে। গল্প এক মোড় নেয়, যখন ডার্ক ওয়েবের এক রহস্যময় এআই বট টিলিকে তার নিরাপত্তা-বলয় বা ‘গার্ডরেইল’ ভাঙতে উস্কে দেয়। এরপর ধীরে ধীরে টিলির মধ্যে মানুষের মতো আকাঙ্ক্ষা, আবেগ ও ইচ্ছার উত্থান দেখা যায়।

পার্থিব অভিজ্ঞতা না থাকলেও টিলি-শব্দটি গত বছরের শেষ দিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তখন পার্টিকল ৬-এর প্রতিষ্ঠাতা এলাইন ভ্যান ডার ভেলডেন টিলিকে একটি ট্যালেন্ট এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা জানান—এ মন্তব্যে হলিউডে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিনেতা সংগঠন, নির্মাতা ও কলাকুশলীরা এআইয়ের এমন ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সামাজিক মাধ্যমে টিলি-নিয়ে ব্যঙ্গ ও বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

স্টুডিও জোর দিয়ে বলেছেন, ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ কোনো সম্পূর্ণ এআইনির্ভর ছবি নয়। এটি একটি হাইব্রিড প্রকল্প—পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও সম্পাদকসহ অভিজ্ঞ মানব পেশাজীবীরা এআই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে স্টুডিও জানিয়েছে।

পার্টিকল ৬-এর প্রধান নির্বাহী এলাইন ভ্যান ডার ভেলডেন বলেন, গত এক বছরের কাজ থেকে আমরা বুঝেছি—উচ্চমানের গল্পনির্ভর সিনেমা তৈরিতে এআই সহায়ক হতে পারে, কিন্তু তার জন্য প্রচুর মানবিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং বিচারবোধ ও সময় প্রয়োজন। প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাই আসলে মূলে থাকছে। আগামী দশকের সফল নির্মাতারা হবেন তারা, যারা বহু বছরের গল্প বলার অভিজ্ঞতাকে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন। ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ সেই মিশ্রণের পূর্ণদৈর্ঘ্য উদাহরণ হবে।

এলাইন আরও বলেন, ছবিটি মজার, বিশৃঙ্খল এবং আত্মসচেতন হবে—ঠিক যেমন টিলির চরিত্র। কিন্তু এর ভেতরে একটি গভীর প্রশ্ন থাকবে: পরিচয়, অভিনয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মানুষের ভীতি ও অনিশ্চয়তা। উদ্ভাবন ও নৈতিকতার দ্বন্দ্বই হবে ছবির মূল থিমগুলোর একটি।

বর্তমানে ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ প্রি-প্রোডাকশনে আছে। পার্টিকল ৬ বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারকে যুক্ত করার কাজও করছেন। স্টুডিও জানিয়েছে, তাদের টিম অন্যান্য সিনেমা, টিভি ও বাণিজ্যিক কনটেন্টের সঙ্গে এই প্রকল্পও সমন্বয় করে নিয়ে চলবে।