ঢাকা | শনিবার | ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে ছাত্রদলের ১০ জরুরি নির্দেশনা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উর্ধ্বতন ও তলার প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনা জারি করেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ, মানুষ ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ বন্যাদুর্গত জেলা গুলোতে অবস্থা নাজুক বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কয়েকদিন ধরে অব্যাহত অতিভারী বর্ষণ ও প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ঢোকার পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্লাবন সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছাত্রদল সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে—এ ধারাবাহিকতায় এবারও সকল ইউনিটকে মাঠে নামতে এবং বন্যাদুর্গতদের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনাগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

১. বন্যাকবলিত সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার কাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে গবাদিপশুদেরও নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

২. প্রতিটি ইউনিটে উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ও সামর্থ্যবান রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শুকনো ও রান্না করা খাবার, ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ORS)/স্যালাইন, ফিটকিরি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে হবে।

৪. যারা বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন, তাদের ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে মিলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

৫. বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের দ্রুত শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান তথ্যগত সহায়তা প্রদান করতে হবে যাতে তাদের পড়াশোনায় বিঘ্ন না ঘটে।

৬. ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সবসময় নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাদের নিরাপত্তা ও আরাম নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর রাখা হবে।

৭. কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসেবার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হবে; ইউনিটগুলোরও স্থানীয় মেডিকেল টিম গঠন করে জরুরি চিকিৎসা ও প্রথমিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

৮. বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর পুনর্নির্মাণ কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে।

৯. বন্যার পরে টাইফয়েড, ডায়রিয়া, আমাশয় ও অন্যান্য জলবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে—এই ঝুঁকি মাথায় রেখে ইউনিটভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ-বিতরণ ও স্বাস্থ্যসচেতনা কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিতে হবে।

১০. কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির পুরো বিষয়টি সমন্বয় করবেন। প্রতিটি ইউনিটকে তাদের কার্যক্রম এবং বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর যাবতীয় তথ্য কেন্দ্রীয় দফতরে ইউনিটভিত্তিকভাবে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা পালনে তৎপর ও দ্বায়িত্বশীল থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে দ্রুততার সঙ্গে অব্যাহত ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বন্যাদুর্গতদের ওপর থেকে মানবিক সংকট লাঘব করা যায়।