ঢাকা | রবিবার | ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ফিফা বিক্রি করছে ফাইনালের মাঠের ঘাস, আয় বাড়াতে নতুন উদ্যোগে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে টিকিট, হোটেল ও পরিবহনসহ নানা খাতে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগের মধ্যে ফিফা নতুন এক আয়-উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য মেগা ফাইনালের মাঠের ঘাসের ছোট টুকরো ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ফিফার অফিসিয়াল স্টোর অনুযায়ী প্রতিটি ঘাসের টুকরোর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৫ হাজার টাকার মতো। ঘাসের আসল টুকরোকে একটি প্রিমিয়াম অ্যাক্রিলিক ফ্রেমের ভেতরে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে ইউএসবি কিপসেকসহ ক্রেতাদের দেওয়া হবে। পণ্যের বিবরণে প্রতিটি টুকরোর আকার ১৭.৫ × ১৭.৫ × ১৭.৫ উল্লেখ থাকলেও সেটা ইঞ্চি, সেন্টিমিটার না মিলিমিটার—কোনটি বুঝিয়ে বলা হয়নি এবং এ বিষয়ে পাঠানো ইমেইলের কোনো জবাবও ফিফা দেয়নি।

ফিফা জানায়, এই বিশেষ স্মারক কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ঠিকানায় পাঠানো হবে এবং তা ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই গ্রাহকদের পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে ঘাস বিক্রির এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা জাগাচ্ছে অনেকের মধ্যে—বিশেষত এমন সময় যে নিয়ে ফিফাকে ইতোমধ্যে ভক্তদের ‘পকেট কাটা’ অভিযোগ ভুগছে।

এবারের বিশ্বকাপে টিকিটের দাম নিয়েও ফিফা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ফাইনালের সাধারণ টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ৩২,৯৭০ ডলারে পৌঁছেছে এবং খাবার-পানীয়সহ হসপিটালিটি টিকিটের দাম শুরু হয়েছে সাড়ে ৩২ হাজার ডলার থেকে, যা সাড়ে ৩৪ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠছে। এসব খরচকে নিয়েই ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সাধারণত এনএফএল খেলার জন্য কৃত্রিম ঘাস ব্যবহার করা হয়। তবে বিশ্বকাপের জন্য এখানে বিশেষভাবে পিচ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং খেলার মাঠের মান নিয়ে খেলোয়াড় ও কোচদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে ব্যাপক সমালোচনা এসেছে। তাছাড়া মাঠের অংশ বিক্রি করা এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক ফুটবলে এবারই নতুন নয়—গত বছরও ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামের পিচের কিছু অংশ নিলাম করা হয়েছিল।

বিশ্বকাপের প্রযুক্তি, স্মারক-বিক্রয় ও টিকিট নীতিকে কেন্দ্র করে চলা বিতর্ক এ উদ্যোগকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে; সমালোচকরা বলছেন, আয় বাড়ানোই প্রধান উদ্দেশ্য হলে দর্শক ও ভক্তদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ আরও বাড়ছে।