ঢাকা | শুক্রবার | ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জি এম কাদের: দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীর শোক সভায় দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের পল্লী নিবাসে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময় এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এখনও পূর্ণ হয়ে ওঠে নি।

জি এম কাদের বলেন, ‘‘চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকে আমরা এখনও পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থান বলতে পারি না। সাধারণ মানুষের সেই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে পরিপূর্ণ হয়নি।’ ’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে যোগ করেন যে, যদি ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারী উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে আগের মতো নতুন করে গণআন্দোলন গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে এবং মানুষ পুনরায় পথে নামতে পারে।

বক্তৃত্বে তিনি বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, ‘‘অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে একতরফাভাবে নির্বাচন উপহার দিয়েছে।’ ’ কাদের দাবি করেন, ওই নির্বাচন মোটেই অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়নি এবং দেশে এখনো ‘মব’ বা গণপিটুনির সংস্কৃতি দিয়ে বিরোধী মতের মানুষদের ওপর চাপ ও অত্যাচার চালানো হচ্ছে।

জাপাকে রাজনৈতিকভাবে কণ্ঠরোধ করতে বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে—এমন বক্তব্যও জানান তিনি। এসব প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দলের নেতাকর্মীদের অঙ্গীকারবদ্ধ থেকে সারাদেশে দলকে সুসংগঠিত করে তোলার নির্দেশ দেন কাদের।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

শোক সভায় এরশাদের স্মৃতিচারণ করে আরও বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাতোয়ারী ও কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাফাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় উপস্থিত নেতারা এরশাদের রাজনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করে দলীয় ঐক্য ও কর্মসূচি জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন।