জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রংপুরে একটি জনসভায় সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আবশ্যক মৌলিক সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, „সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কয়েকটি মূল সংস্কার অপরিহার্য। আমরা সেই সংস্কারগুলো আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।”
শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয় রংপুর মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে, যেখানে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ৪ দফা দাবির মধ্যে খুনিদের বিচারের পাশাপাশি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারি দাবিও ছিল।
ডা. শফিকুর বলেন, „যারা এখনও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলের নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেন, আমরা মহান আল্লাহর কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে সেই স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে রূপান্তরিত করব। কোনো প্রশাসনিক ষড়যন্ত্র বা ক্যু মেনে নেওয়া হবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো আঘাত বা অবৈধ মাস্তানতন্ত্র অনুমোদিত হবে না, কালো টাকার সমস্ত লেনদেনও সহ্য করা হবে না। মৌলিক সংস্কার ছাড়া ভাল ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন কখনো সম্ভব নয়।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে ‘মব কালচার’ থাকলেও জামায়াতের কোনো কর্মী সহিংসতায় জড়িত নয় এবং দল সবসময় মব রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি লালমনিরহাটের সাম্প্রতিক সহিংসতা তুলে ধরে বলেন, „বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য আগে নির্বাচনের পরিবেশ গড়া প্রয়োজন, আর সেই পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই মৌলিক সংস্কারের দাবি সামনে এনেছি।”
ডা. শফিকুর ইসলাম রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা নিজেদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং রাষ্ট্রও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার দায়িত্ব নিক। তিনি সতর্ক করেন যে, আসন্ন নির্বাচনের সামনে নানা ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে জনগণের জাগরণই পরিবর্তনের প্রধান শক্তি হবে।
জামায়াতের আমির বলেন, „যেই জনগণ এত মূল্য দিয়ে একটা পরিবর্তন এনেছে, তারা আবারও কোনো ফ্যাসিবাদের কায়েমার সুযোগ দিবে না। আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী এই লড়াই চলিয়ে যাবো যতদিন দেশে ফ্যাসিবাদের সামান্য চিহ্নও থাকবে, আর এই লড়াই কোনোভাবেই থামানো যাবে না।”
জনসভায় বিশেষ অতিথি এটিএম আজহারুল ইসলাম তাঁর স্বৈরাচার বিরোধী ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, „আমি আজ মুক্তভাবে কথা বলতে পারছি, যা কিছুদিন আগে কারাগারে ফাঁসির আগেতে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে মুক্ত হয়েছি। যিনি আমার গলায় ফাঁসির রশি পরাতে চেয়েছিলেন, আজ সেই গলায় ফুলের মালা পরানো হয়েছে।”
তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে তাঁর অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করেন। জনসভায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অনেক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন জামায়াত রংপুর মহানগরের আমির এটিএম আজম খান।
এছাড়া জনসভায় আগামী নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিমের হাত ধরে।








