ঢাকা | শুক্রবার | ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ঢাকায় সার্জিও গোরের বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি ঘোষণা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে মার্কিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর বলেছেন, বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুনভাবে জোরদার করার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

সার্জিও গোর বলেন, আমার এই প্রথম বাংলাদেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক এবং দুদেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে আলোচনা খুবই স্বস্তিদায়ক ছিল। তিনি যোগ করেন, “অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।”

ঢাকায় পা রাখার পর এই মার্কিন কূটনীতিক সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে দুপুরে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এক টুইটারে লিখেছেন, ‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। এই সফর আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করবে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

সার্জিও গোরের এ সফরকালে তিনি আগামী শুক্রবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলি পরিদর্শন করবেন। এরপর শনিবার বাংলাদেশ সরকারের একজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া, সরকারি উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলাপচারিতার সুযোগ থাকছে বলে জানা গেছে।

২০২৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে, ভারতে মার্কিন দূতাবাসের দায়িত্ব গ্রহণের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। গত সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের মিশনের দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্পের বই প্রকাশসহ ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগেও তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন এ দূত, সার্জিও গোর, ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ওয়াশিংটন থেকে বাংলাদেশের জন্য তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সফর। এর আগে, মার্চে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে জনাব ব্রেন্ডান লিঞ্চ এই অঞ্চলে সফর করেছিলেন।

সার্জিও গোরের ঢাকায় পৌঁছানোর পর বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে, রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, ‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত সার্জিও গোরকে বাংলাদেশে স্বাগত। এই সফর আমাদের কৌশলগত সম্পর্কের দৃঢ়তা আরও বাড়িয়ে তুলবে।’

কূটনৈতিক মহলের উল্লেখ, এ সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক কৌশল এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রী চীনা সফর, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো ও তুরস্কের সফর এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে চলমান আলোচনা এই সফরে গুরুত্ব পাবে। সম্ভবত, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু বার্তা বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতে পারে।