ঢাকা | মঙ্গলবার | ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

কয়রার অসহায় জান্নাতুলের পাশে দাঁড়ালেন ডা. জুবাইদা রহমান

খুলনায় অর্থের অভাবে চিকিৎসা সমস্যায় পড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি শিশুনর পরিচিতি পেতে শুরু করেছে মানবতার এক নতুন দৃষ্টান্ত। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের পাশে এসে দাঁড়িয়ে তাকে সুস্থ করে তুলতে এগিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। শিশুটির স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জান্নাতুলের পরিবারের আকুতির একটি ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে ডা. জুবাইদার। তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিশুটির চিকিৎসার খোঁজ নেয়ার নির্দেশ দেন। শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজের বরেণ্য হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে গিয়ে শিশুটির খোঁজ নেন তিনি। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন, শিশুর পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেন।

জান্নাতুলের মা আজমিরা বেগম জানান, তাদের পরিবার একটি অভাবী পরিবার। কয়রা উপজেলার নিজ বাড়িতে থাকলেও স্বামী-সন্তান নিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন। জান্নাতুলের বড় ভাই এখন দৌলতপুরের একটি হেফজখানায় পড়াশোনা করছে, সবকিছু মিলিয়ে তাদের জন্য জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। দুই মাস বয়সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া শিশুটির পা ধীরে ধীরে নিষ্তেজ হয়ে যায়, নার্ভের জটিলতা এবং শয্যাক্ষত দেখা দেয়। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যয় না থাকায় চিকিৎসা খরচে অরাজকতা সৃষ্টি হয়।

কিন্তু সম্প্রতি একজন ভদ্রলোকের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে এবং তারা দেখা করতে যান। শিশুটি এখন দশমাসের, অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও চিকিৎসা প্রয়োজন।

ডা. জুবাইদার নির্দেশনায় এ বিষয়ে তদারকি করছেন জিয়ারফের কনিষ্ঠ সদস্য ডা. এমআর হাসান। তিনি জানান, ভিডিও পেয়ে দ্রুত কার্যক্রম শুরু হয়েছে, ইতিমধ্যে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির জন্য একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেন, শিশুটির জন্য দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, শিশুর পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে, প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরণের সহায়তা প্রদান করা হবে। সম্পূর্ণ ঘটনাটি মানবতার আরেক অসাধারণ নজির প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে একজন সমাজসেবী ও স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বশীল ব্যক্তি শিশুটির জন্য এগিয়ে এসেছেন।