ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আধুনিক নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ ও উন্নত পরীক্ষাগার: খাদ্য উপদেষ্টা

আধুনিক ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য দেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। সেইসঙ্গে প্রয়োজন মানসম্মত ও আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার। সম্প্রতি ঢাকা শহরে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পরিপ্রেক্ষিতে জাপান সরকারের ও জাইকার সহযোগিতায় একটি উন্নত ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হল রুমে আয়োজিত “Modern Food Safety System in Bangladesh” শীর্ষক সেমিনারে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এই তথ্য ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত H.E. Mr. Shinichi Saida, জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি Mr. Tomohide Ichiguchi, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাসুদুল হাসান, এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।

উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য রপ্তানিতে ব্যাপক সম্ভাবনা বিদ্যমান, তবে নিরাপদ খাদ্যের অভাবে আমরা সম্পূর্ণভাবে তা কাজে লাগাতে পারছি না। রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের নিরাপত্তা ও গুণমান নিশ্চিত করা আবশ্যক।” তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে, জাপান সরকারের সহযোগিতায় ঢাকায় একটি আধুনিক নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন করা হচ্ছে, যা জাতীয় রেফারেন্স পরীক্ষাগারের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও খুলনায় বিভাগীয় নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার নির্মাণের মাধ্যমে দেশে খাদ্য নিরাপত্তাকে আরো জোরদার করতে প্রয়াস চলছে।

জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা বলেন, “বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক খাদ্য নিরাপত্তা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। নিরাপদ খাদ্যের উন্নয়নে আমরা প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখব।” তিনি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে একত্রিত উদ্যোগ ও সুস্পষ্ট দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা একক লাইসেন্সিং ব্যবস্থা কার্যকর করতে সহায়ক হবে।

খাদ্য সচিব মোঃ মাসুদুল হাসান বলেন, “স্বল্পমেয়াদী অর্ধেকতলার উদ্যোগ নয়, আমাদের সম্পূর্ণ আধুনিক ও সমন্বিত নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা দরকার। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাইকার সহায়তায় এই লক্ষ্যে নিরলস কাজ চালানো হচ্ছে।”

মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ জানিয়েছেন, খাদ্যের অস্বাস্থ্যকরতা পৃথিবীতে প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষের জীবনের ক্ষতি করছে। নিরাপদ খাদ্যের অভাবে নগরায়ণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

সেমিনারে খাদ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ী ও দাতামূলক সংগঠন, খাতে সক্রিয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। নিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল।