আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রশাসনিক, আইনি এবং গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করলেও, অন্তর্বর্তী সরকার এই ক্ষেত্রে ন্যূনতম হস্তক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ মফিজুর রহমানের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আজ শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে ‘গণমাধ্যম সংস্কার প্রতিবেদন পর্যালোচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
শফিকুল আলম বলেন, ‘‘বাংলাদেশে আগে সাংবাদিকতার জায়গাটি ছিল অনেকটা সরকার নির্ভর এবং নিয়ন্ত্রিত। আমরা এখন সেই নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিচ্ছি, যাতে সবাই ইথিক্যাল গ্রাউন্ডে সাংবাদিকতা করতে পারে। যদিও এখনও সবকিছু পরিপূর্ণ হয়নি, তবু অনেক ভালো পরিবর্তন এসেছে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ছিল আমাদের ওপর বিরাট একটি বাধা, যা বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হত। এই আইন প্রয়োগে সাত হাজারের বেশি মামলা হয়েছে, যেগুলো মূলত বাকস্বাধীনতাকে দমন করার জন্য। শেখ হাসিনার শাসনামলে মানুষ প্রধান ধারার মিডিয়ায় খোলা মনা কথা বলতে পারত না। ফেসবুক, ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্যই ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। আমাদের প্রথম কাজ ছিল এই আইনটিকে বাতিল করা।’’
নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘‘নতুন আইন প্রণয়নের সময় আমরা দেশের সব শ্রেণির মানুষ এবং বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সবাই তাদের মতামত দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই আইনের মাধ্যমে কারও বাকস্বাধীনতাকে বাধাগ্ৰস্ত করা হয়নি। তবে শুধু এই আইন নয়, বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের মানুষের কথা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আগে ডিজিএফআই ও অন্যান্য গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হতো, যাতে সাংবাদিকদের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা চেষ্টা করেছি এই প্রবণতা বন্ধ করতে। আমাদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, কেউ যেন কোনো গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও সাংবাদিক বা গণমাধ্যমে ফোন দিয়ে হুমকি না দেয়।’’
গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি শফিকুল আলমের আহ্বান ছিল, ‘‘যদি কেউ ভুল তথ্য দেয় বা অপপ্রচার করে, সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা রয়েছে যা সেসব খতিয়ে দেখে। আমরা চাই সাংবাদিকরা দায়িত্বশীল হোন এবং যথাযথ তথ্য উপস্থাপন করেন।’’
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি, ‘‘আগে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ডেপুটি প্রেস সচিব মন্ত্রী হলেও সাংবাদিকতা ছিল ব্যাপক নিয়ন্ত্রিত। আমরা এখন সেই জায়গায় যেতে চাই না। আমরা চাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হোক, যাতে প্রশাসনিক, আইনগত ও গোয়েন্দা সংস্থার কোন হস্তক্ষেপ না থাকে।’’
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, ‘‘আমাদের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ, তবে সেগুলো নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’’
ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের সভাপতি রেজোয়ানুল হক রাজা বলেন, ‘‘গত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় স্বার্থের কারণে সাংবাদিকতার মান অনেকটাই নষ্ট হয়েছে। যদিও কমিশনের রিপোর্টের সঙ্গে শতভাগ একমত নই, অধিকাংশ ক্ষেত্রে একমত হওয়া যায়। তবে সাংবাদিকদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু সাংবাদিকতা সম্ভব নয়।’’








