ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

৭ জুলাই: বাংলা ব্লকেডে স্থবির ঢাকা, কোটা বাতিলের দাবিতে এক দফা কর্মসূচি ঘোষণা

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল এবং ২০১৮ সালে জারি হওয়া কোটা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ২০২৪ সালের ৭ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক আন্দোলন ও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করা হয়। শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচির কারণে ঢাকা সহ দেশের একটি বড় অংশ থমকে যায়।

এই প্রতিবাদে শুধু ঢাকা নয়, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা, খুলনা, রংপুর, সিলেটসহ গাজীপুর, সাভার ও দিনাজপুরের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন এবং পরের দিন সোমবার (৮ জুন) পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ৭ জুলাই বেলা সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে ভীড় করতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনো আবাসিক হলে যদি বাধা দেওয়া হয়, আমাদের জানান, আমরা ঐ হল ঘেরাও করব।’ তিনি জানান, ৮ জুলাই থেকে এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হবে, যার মধ্যে সব গ্রেডে অযৌক্তিক কোটা বাতিল করার দাবি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘কোটা সংস্কারে সংসদে আইন পাস করতে হবে এবং নাতিপুতি-কোটাসহ অযৌক্তিক কোটা বাতিল করতে হবে। দাবী মানলে আমরা পরিবারে ফিরে গিয়ে পড়াশোনা করব।’

এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানगरের আটটি স্থানে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। শাহবাগ মোড় থেকে শুরু করে সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, চানখাঁরপুল ও আগারগাঁওসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবরোধের ফলে যান চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। বিকেলে শাহবাগ মোড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্লোগান দিয়면서 অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন, যা রাত আটটায় খুলে দেওয়া হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে পথনাটক, কবিতা ও গান পরিবেশন করেন এবং একাডেমিক কার্যক্রম ও বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের চারদফা দাবির পক্ষে আন্দোলন শুরু করে, যেখানে পুলিশি বাধার মুখে মিছিলে গন্তব্য পরিবর্তন করতে হয়।

অন্যান্য বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেমন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাবি’র শিক্ষার্থীরা সমান গুরুত্ব ও উত্তেজনায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এ কর্মসূচির কারণে দেশজুড়ে ও দেশের বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।

শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আলোচনার পর কিছু অংশের মধ্যে অস্থায়ী শান্তি ফিরে আসে, তবে আন্দোলনের দাবিগুলো নিয়ে ইতি ঘটেনি এবং আগামী দিনগুলোতেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকার অঙ্গীকার রয়েছে।