ঢাকা | মঙ্গলবার | ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জামায়াতের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নেই, এনসিপির সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করে বলেছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোগী দল বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এবার নির্বাচনি জোট গঠনের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এখনও খোলা রয়েছে, যা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত চলতে পারে।

ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচন ঘিরে দাবিদাওয়া তাদের বৃহত্তর কৌশলের অংশ মাত্র। তাছাড়া আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনার ব্যাপারে তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় ঘটাতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনাগুলো সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ছে এবং আশা করেন শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন উল্লেখ করেন, অতীতে কৌশলগত কারণে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করা হয়েছিল, কিন্তু এখন তাদের সঙ্গে জোট গঠনের প্রয়োজন অনুপস্থিত। বিএনপি এখন মূলত তাদের সঙ্গে জোট এবং জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে মনোযোগী, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে।

এনসিপির সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত আলোচনা চলবে এবং শেষপর্যন্ত কী হবে তা সময়ই বলে দেবে। তিনি আরও বলেন, সব গণতান্ত্রিক দল তাদের নিজ নিজ কৌশল নির্বাচন আগে গ্রহণ করবে এবং বিএনপির কৌশল ও জোট গঠন নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনাগুলো যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যেই শেষ হওয়া উচিত ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা পুনর্স্থাপিত হয়েছে, এবার শুধু সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ রায়ের অপেক্ষা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রিভিউ আবেদনে ইতিবাচক রায় আসবে।

সালাহউদ্দিন বলেন, দেশের জনগণ নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন চাই। তবে এই কাঠামো নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে এবং বিকল্প বিষয়ক আলোচনা চলছে। যদি আর কোনো ভালো বিকল্প না পাওয়া যায়, বর্তমান কাঠামোই বজায় থাকবে।

আসন্ন নির্বাচনে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিরোধিতাও ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ পিআর ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয় এবং এটি ভোটারদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কমিয়ে আনতে পারে। পিআর ব্যবস্থায় ভোট প্রতিফলনের স্বচ্ছতা কমে যায় এবং ছোট দলগুলো বেশি আসন পেতে পারে, যার ফলে দুর্বল জোট সরকার গঠন হবে এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে ওঠার সুযোগ থাকবে না।

তিনি আরও ব্যাখ্যা দেন, পিআর পদ্ধতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ কমে যায়, যা অগণতান্ত্রিক এবং অন্যায়। এছাড়া বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কার্যকর হবে না কারণ সংসদ সদস্যরা সরাসরি উন্নয়ন কাজে জড়িত থাকেন, যেখানে স্থানীয় সরকারও শক্তিশালী নয়।

শেষে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি পিআর পদ্ধতিতে কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না এবং তারা সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়া নিশ্চিত করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। বিভিন্ন দলের দাবি থাকলেও অনেকেই তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মনে করেন তিনি।