নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আমাদের উচিত বাস্তবিক ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে পায়রা বন্দরের ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক এবং কার্যকর করা। পায়রা বন্দরের মাস্টারপ্ল্যান যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এই অঞ্চল বাংলাদেশের অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তিতে পরিণত হবে।’ তিনি এই কথা বলেন আজ রোববার দুপুরে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আয়োজিত পায়রা বন্দরের মাস্টারপ্ল্যান বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে।
উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের মানুষের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বন্দর রয়েছে। কিন্তু নতুন কোনো বন্দর নির্মাণ বা চট্টগ্রাম বন্দরের পাশের অংশে নতুন বন্দর গড়ার প্রস্তাবে নেগেটিভ মন্তব্য উঠে, কেউ বলে “দেশ শেষ হয়ে গেলো”। এছাড়াও, চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন অপারেটর নিয়োগের কথাও উঠলেই একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যেন এই বিষয়গুলো নিয়ে সবাই খুব উদ্বিগ্ন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া করছে।’
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাসুদ ইকবাল সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে জানান, ‘আগামী বছরের জুলাই মাসের মধ্যে বন্দরের প্রথম টার্মিনাল চালু করার লক্ষ্যে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এজন্য সরকারের সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রস্তুতি ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।’
সেমিনারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ এবং নেদারল্যান্ডসের রয়্যাল হাসকোনিং ডিএইচভি’র টিম লিডার মেনো মুইজ মাস্টারপ্ল্যানের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন।
এছাড়াও, পায়রা বন্দরের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল কাদের বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কৌশল নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন দেন।
সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক সংস্থার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বন্দর ব্যবহারকারী অংশীজন এবং মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান বুয়েট ও রয়্যাল হাসকোনিং ডিএইচভি’র প্রতিনিধিরা। এই সেমিনার পায়রা বন্দরের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রগতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশা জাগিয়েছে।








