জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান ১৫তম দিনের আলোচনা অধিবেশনের প্রথমার্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে বিভিন্ন দলের মতামত সংগ্রহ করে কমিশন নতুন একটি সংশোধিত সমন্বিত প্রস্তাব তৈরি করেছে এবং তা দলগুলোর কাছে উপস্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবে বিস্তারিতভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের পদ্ধতি স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রস্তাবনার অধিকাংশ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত পোষণ করেছে। এখন সেই খসড়া প্রস্তাবের ভাষাগত এবং অন্যান্য খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দলগুলোর আগামীকাল দেওয়া মতামতের ভিত্তিতে আগামী মঙ্গলবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রবিবার (২০ জুলাই) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৫তম দিনের আলোচনার পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। এইসময় কমিশনের সদস্য হিসেবে বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, সকালেই একাডেমি সম্মুখে ত্রিসূত্রীয় দাবিতে কেন্দ্রীয় মানববন্ধনে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়েছে কমিশন। অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘এই মানববন্ধন কর্মসূচির প্রতি আমরা আন্তরিক সংহতি প্রকাশ করছি।’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি জাতীয় সনদ প্রস্তুত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। বাকি আলোচনাতেও নতুন কিছু মৌলিক বিষয়ে সম্মতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আলোচনার এই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব হবে।
উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে দলের মধ্যে কোনো ভিন্নমত নেই বলেও জানান অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তবে উচ্চকক্ষ কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে দুটি ভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে। এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলি কমিশনের কাছে দিকনির্দেশনা চেয়েছে।
কমিশন ইতোমধ্যে উচ্চকক্ষ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছে এবং কিছু সময় নিয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আজকের আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি সহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।









