ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

২৭ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সনের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন

২৭ জুলাই থেকে শুরু হবে ২০২৬ সনের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম। যেসব কর্মীরা ওই বছর হজে অংশগ্রহণ করতে চান, তারা প্রাথমিকভাবে চার লাখ টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন।

আজ সকালে সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন সভাপতিত্ব করেন।

সৌদি সরকারের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুসারে, আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে হজের চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই হজযাত্রীদের প্রথমে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে এবং পরবর্তীতে হজ প্যাকেজের বাকি টাকা প্রদান করে চূড়ান্ত নিবন্ধনের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিমানভাড়া এবং সৌদি হজের অন্যান্য ব্যয়ের হিসাব নির্ধারণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ২০২৬ সনের জন্য হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবে।

সরকারি মাধ্যমে হজে অংশগ্রহণের জন্য ই-হজ সিস্টেম (www.hajj.gov.bd), লাব্বাইক মোবাইল অ্যাপ, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয়, জেলা ও বায়তুল মোকাররম অফিস এবং আশকোনা হজ অফিস থেকে প্রাথমিক ও চূড়ান্ত নিবন্ধন করা যাবে। অন্যদিকে, বেসরকারি মাধ্যমে হজ পালন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের অনুমোদিত হজ এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধন করানো আবশ্যক।

সভায় সৌদি সরকারের ২০২৬ সনের হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপসহ বিশেষ নির্দেশনাসমূহ উপস্থাপন করা হয়। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় আগামী হজ মৌসুমে মক্কা ও মদিনায় বাড়িভাড়ার পূর্বেই হজের ফ্লাইট শিডিউল চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দিয়েছে। এছাড়াও হজযাত্রীদের কোরবানির টাকা ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। মেডিকেল ফিটনেস ছাড়াই হজে যাওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ না হলে হজ পালনে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেও দিয়েছে সৌদি মন্ত্রণালয়।

সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এসভায় হাব তাদের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে। প্রস্তাবনায় ফ্লাইট শিডিউল চূড়ান্ত হওয়ার পূর্বে বাড়িভাড়া চুক্তি স্বাক্ষর না করার বিষয়, কোরবানির ব্যবস্থা ও ক্যাটারিং সার্ভিস বাধ্যতামূলক না করার সুপারিশ, হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং হজ প্যাকেজের মেয়াদ ৩৫-৪০ দিনে কমিয়ে আনার দাবি রাখা হয়।

সভায় ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক, অতিরিক্ত সচিব মুঃ আঃ আউয়াল হাওলাদার, হজ অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মোঃ মঞ্জুরুল হক, হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার, মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদারসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং হাবের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।