ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ মার্চের গণঅভ্যুত্থানকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের সাথে গভীরভাবে জড়িত মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ মার্চের গণঅভ্যুত্থানকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই ইতিহাসের মূল্যবোধকে সামনে রেখে আমাদের দেশের উন্নয়নের পথ চলা অব্যাহত থাকবে।

আজ সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমীর দোয়েল হলে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের ষোড়শ দিনের আলোচনার শুরুতে প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৫৩ বছরের সংগ্রাম এবং গত বছরের গণঅভ্যুত্থান—যেখানে রক্তপাত ও প্রাণহানিও ঘটেছে—এই সব ঘটনাকে আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। এগুলোর উপর ভিত্তি করেই আমাদের সামনে চলতে হবে এবং উন্নতি করতে হবে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘‘আমাদের প্রতিদিনের আলোচনার শুরুতেই আমরা যাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, তারা হলেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া এই অঙ্গীকার বা আলোচনা কখনোই সম্ভব হতো না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অস্তিত্বের মূলে অবস্থান করে। আমাদের সকল সাফল্য ও ব্যর্থতার ঊর্ধ্বে মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য রয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা এই রাষ্ট্র অর্জন করেছি এবং রাষ্ট্রের পথনির্দেশনা নির্ধারণ করেছি।’’

তিনি জানান, ‘‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ চলাকালীন আমরা এক সময় সন্ত্রাস ও ফ্যাসিজমের অন্ধকার সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলাম, যা থেকে সংগ্রাম ও ঐক্যের মাধ্যমে আমরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি। এই প্রেক্ষাপটটাই জাতীয় ঐক্যমত সনদে বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’‘

অধ্যাপক আলী রীয়াজ দ্রুত রাষ্ট্রীয় সনদ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যমতে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য মাঠে নামোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা যদি ৩১ তারিখের মধ্যে ঐকমতে পৌঁছাতে চাই, যা আমি বাধ্যতামূলক মনে করি, তাহলে হাতে মাত্র ১০ দিনের সময় বাকি। এই সময়ের মধ্যে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিছু বিষয়ের জন্য হয়তো অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে, তবে কিছু বিষয়ের ওপর সমাধান ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’’

ড. আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘‘আমরা শুরু থেকেই ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ বা মতভেদের নথিভুক্ত করার সুযোগ রেখেছি, তাই কেউ চাইলে তাদের দ্বিমত প্রকাশ করতে পারেন এবং তা জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত হবে।’‘

তিনি বলেন, ‘‘কমিশনের ওপর আরোপিত একটি গুরুদায়িত্ব হলো দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সংগ্রহ করা। এই বিষয়ে কমিশন আগামীকাল বা পরশু দিন সিদ্ধান্ত জানাবে।’’

গতকালের অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনার সূচনা করে তিনি জানান, ‘‘গতকাল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অধিকাংশের সম্মতি পাওয়া গেছে। কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও আমরা আশা করি আজকের আলোচনায় তা মীমাংসিত হবে।’‘

তিনি যোগ করেন, ‘‘আজকের মধ্যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে সমাধান খুঁজে বের করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। যদি কমিশনকে জানানো হয়, আমরা আগামীকালের বৈঠকে বিষয়গুলো পুনরায় উত্থাপন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করব।’’

সবশেষে, তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক প্রচেষ্টায় তারা দ্রুত ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. আইয়ুব মিয়া।

আজকের জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।