ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নদী ভাঙনে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় নবীন সরদারের একমাত্র ছেলের কবর, উদ্বিগ্ন বাবা খবির সরদার

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সি বাজার এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ের ভাঙনের কারণে এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নবীন সরদারের একমাত্র ছেলে মফিজ সরদারের কবরটি নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তার বাবা খবির সরদার (৬৫)। তিনি প্রতিদিনের অধিকাংশ সময়ই কবরের আশপাশে কাটান, যেখানে তার একমাত্র ছেলের স্মৃতিচিহ্ন অক্ষত রাখার প্রয়াসরত।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সরেজমিন আলাপকালে খবির সরদার জানালেন, ১৫ বছর আগে তাদের মুদি দোকানে জেনারেটর বিস্ফোরণে মফিজের মৃত্যুর পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ কবরস্থানে মফিজের চাচা নবীন সরদার, চাচীসহ কয়েকজন শোকসন্তপ্ত আত্মীয়ের কবর রয়েছে।

গত কয়েক বছরের অব্যাহত নদী ভাঙনের কারণে এই কবর একেবারে নদীর পাড়ে এসে গেছে। বিশেষ করে গত দুই দিন ধরে পদ্মার তীব্র স্রোত আবারো ভাঙন শুরু করায় খবির সরদারের পরিবারের সবচেয়ে বড় সম্পদ অর্থাৎ সোয়া বিঘার ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যদি পরিস্থিতি এভাবে চলে যায়, তাহলে শুধু তাদের পারিবারিক কবরস্থান নয়, এখানে অবস্থিত দুটি ছাপড়াঘর ও ভিটেমাটিও নদীতে হারিয়ে যাবে।

খবির সরদার জানান, বহু বছর ধরে এ এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তার বাপ-দাদার প্রায় ১০০ বিঘা জমি এই নদীর ভাঙনে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তিনি সরকারের প্রতি আক্ষেপ করেন যে, এত বছর পরও তাদের রক্ষার্থে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি।

পদ্মা পাড়ের মানুষজন দিশেহারা হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাতে তাদের নিদ্রাহীন কাটছে।

স্থানীয় কাউয়ালজানি এলাকার শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানান, মাত্র দুই দিনের নদী ভাঙনে তার প্রায় ১০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। গত বছর জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, কিন্তু তার পাশ্ববর্তী এলাকায় এখনো ভাঙন চলছেই। এজন্য দ্রুত আরও জিও ব্যাগ ফেলা দরকার।

অন্যদিকে মুন্সি পাড়া এলাকার লোকমান সরদার (৫৫) জানান, তার মোট ১০ বিঘা জমির মধ্যে গত কয়েকবছরের ভাঙনে প্রায় ৮ বিঘা নদীতে চলে গেছে। গত ২-৩ দিনে অবশিষ্ট ২ বিঘা জমিও বিলীন হয়ে গেছে। তিনি ভাঙন রোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার জোর দাবি জানান।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাহিদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়ালজানি ও মুন্সি পাড়া এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে এবং দৌলতদিয়া ইউনিয়নের লঞ্চ ও ফেরিঘাটগুলোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি বিষয়টি প্রশাসনের উর্ধ্বতন পর্যায়ে অবহিত করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানানো হয়।