ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

২০ বছরে সর্বনিম্ন: বিদায়ী বছরে এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ৬৮ শতাংশ

গত ২০ বছরের মধ্যে বিদায়ী অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন সবচেয়ে কম হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ৬৮ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে, যা গত দুই দশকে একজন অভূতপূর্ব সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) তাদের ওয়েবসাইটে ২০০৪-২৫ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে গত অর্থবছরই ছিল সর্বনিম্ন হার।

বিদায়ী অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা, তবে বছর শেষে প্রকৃত খরচ দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৫০ কোটি টাকায়। বাস্তবায়ন হার ছিল মাত্র ৬৭.৮৫ শতাংশ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আন্দোলনের সময় বেশ কয়েকদিন কারফিউ জারি থাকায় প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ক্ষমতা হস্তান্তরের পর কিছু প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদার হারিয়ে যাওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থের পুরোটা ব্যয় করা সম্ভব হয়নি।

বিদায়ী অর্থবছরে আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা কম খরচ হয়েছে, যা খুবই অনভিপ্রেত। কোভিড-১৯ মহামারির প্রথম বছরে কিছুটা কম ছিল খরচ, কিন্তু এত বড় ব্যবধান দেখা যায়নি।

২০০৪-০৫ থেকে শুরু করে গত অর্থবছর পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়ন সাধারণত ৮০ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে ছিল, কিন্তু এইবার তা নেমে এসেছে মাত্র ৬৮ শতাংশে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের করুণ অবস্থা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। এখানে বরাদ্দ থাকা ২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৩৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, অর্থাৎ বাস্তবায়ন হার ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ।

তালিকার অন্যান্য নিম্নতম বিভাগের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ (২১ শতাংশ), নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (৩২ শতাংশ), বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (৩৭ শতাংশ) এবং ভূমি মন্ত্রণালয় (৩৭ শতাংশ)।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের বরাদ্দের ৯৮ শতাংশ অর্থ খরচ করে সর্বোচ্চ কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে।

এমন খারাপ এডিপি বাস্তবায়নের পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা জড়িত, যা আগামীতে নিরসন করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।