ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ: ১৫ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসে নিহতদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী ১৫ বছর período আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনসহ অন্যান্য সংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে নিহত individualsদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করেন শহীদ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এবং মামা মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন।

এসময় শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবার প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানায়, ১৫ বছরের আগের ওই সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ তালিকা তৈরি করার। একই সঙ্গে তারা আবরার হত্যার মামলার দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের সন্তান দেশের উন্নয়ন ও স্বার্থের কথা বলায় নির্মমভাবে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছে। সে অসম পানি বণ্টনের বিরোধিতা করেছিল এবং দেশের প্রকৃত স্বার্থেই কথা বলেছিল।’

আবরারের বাবা আরও জানান, ‘তাঁর মা এখনো ছেলের জন্য আর্তনাদ করছেন। আমাদের আশা, আর কোনো মা যেন এই কষ্টটা পেতে না হয়, কোনো মা যেন খালি বুকে না বসে।’

এছাড়াও মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ প্রধান উপদেষ্টার কাছে কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানান, যা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর দাবি। সেতুর অভাবে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তির মুখে রয়েছে।

ইনিয়ে, আবরারের ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধান উপদেষ্টার কাছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আরও শিক্ষার্থী বান্ধব ও নিরাপদ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও সুনির্দিষ্টভাবে শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। প্রয়োজনীয় ল্যাব, সরঞ্জামাদি ও অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। আমরা আশা করি বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করবে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বুয়েটে র‌্যাগিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, নিপীড়নের ঘটনা এই প্রথম নয়, আগেও এরকম ঘটেছে এবং সেগুলোর ন্যায়সংগত তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আবরার ফাহাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও সময়মতো বিচার নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও ১৫ বছরের আগের দলীয় সন্ত্রাসী হামলা ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নির্যাতনমূলক হত্যাকাণ্ডের প্রত্যেকটি ঘটনাও তদন্তাধীন রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’

এই নতুন উদ্যোগ দেশের সন্ত্রাস প্রবণতা নির্মূল করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।