ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মিটফোর্ডে হত্যাকাণ্ড: বিএনপি গঠন করল তদন্ত কমিটি

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় লাল চাঁদ সোহাগ নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর নির্মম হত্যা ঘটিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তীক্ষ্ণ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে। এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্তে এবং তথ্য সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে বিএনপি একটি সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দলটি আশঙ্কা করছে, এই ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে।

বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার (১৪ জুলাই) দলীয় প্রধানের গুলশান অফিসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে। কিছু পক্ষের উসকানিতে জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এই ধরনের ঘটনাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের অশান্তি সৃষ্টি এবং দুষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

ফখরুল জানান, এই নির্মম ঘটনার পেছনের সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে একটি সুসংগঠিত এবং যোগ্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করবে এবং জনগণের সামনে আসল ঘটনা তুলে ধরবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই দুঃখজনক ঘঠনার পেছনে ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে ভুলভাবে খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা আমরা কঠোরভাবে আপত্তি জানাই।”

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লাল চাঁদ সোহাগের হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়েছে। যদিও এখনও সরাসরি কোনো প্রমাণ না থাকলেও, পুলিশের তদন্তে নাম উল্লেখিত কয়েক জনের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলার আওতায় আজীবন বহিষ্কারের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিএনপি নেতা আরও বলেন, নিহতের পরিবার ইতোমধ্যেই মামলার বিবৃতিতে বিভিন্ন অসঙ্গতির বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আসল দোষীদের বদলে রিপোর্টে তিনজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে পরিবার কোনো অভিযোগ জানায়নি। এই নির্মম হত্যায় প্রকৃত অপরাধীরা এখনও ধরা পড়েনি এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পরিচয় খুলে দিতে পারেনি।

বিপুল রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলা এই ঘটনাটি জোরদার তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি বলে বিএনপি মনে করে।