ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নূরুল হক নূর: অন্তর্বর্তী সরকারকে দশে সর্বোচ্চ পাঁচ নম্বর

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এগারো মাসে বিএনপি-জামায়াতকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুনর্বহাল ছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের কার্যক্রম প্রত্যাশিত কোনো পরিবর্তন ঘটায়নি এবং তাদের মূল্যায়নে দশের মধ্যে সর্বোচ্চ চার থেকে পাঁচ নম্বর দেওয়া যেতে পারে।

শনিবার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে ‘গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় নূর এসব কথা বলেন। আলোচনা আয়োজনে ভূমিকা রাখে গণতন্ত্র মঞ্চ, যা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে গঠন করেছে। মূলত গত বছরের ১৯ জানুয়ারি গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনা স্মরণে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা নূর বলেন, “সরকারের এগারো মাসের কার্যক্রমকে দশের মধ্যে নম্বর দিতে চাইলে সর্বোচ্চ চার বা পাঁচ দিতে হবে, যা দেওয়া হলেও কষ্ট হয়, কারণ তারা দেশকে আংশিক পরিবর্তনও করতে পারেনি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের লড়াই করে আসছি, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের কাছে আমাদের উচ্চ প্রত্যাশা ছিল; তা ওই সময়েও নতুন কোনো কার্যকর পরিবর্তন দেখা যায়নি।”

তিনি বিশেষ করে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা, ভূমি কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে নাগরিক সেবায় কোন উন্নতি না হওয়াকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করেন এবং বলেন, “সেখানকার ক্ষমতাধারী রাজনৈতিক নেতাদের কথামতো ব্যবস্থা চলছে যা পরিবর্তনের দাবি আমাদের।”

নূর আরও বলেন, “আমরা বহু দিন ধরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সংসদের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছি, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর এককেন্দ্রিক ও স্বৈরাচারী ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। এখন সেই পরিবর্তনের সময় এসেছে।”

ডাকসু সাবেক ভিপি নূর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বিষয়ে বলেন, “সেখানে কিছু গাছাড়া ও লাগামছাড়া ভাব আছে, কিন্তু মৌলিক সংস্কার নিয়ে আমাদের ঐকমত্য গড়ে তোলার প্রয়োজন।” তিনি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে সব দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন, যা বাস্তবায়িত হলে পার্লামেন্টে ভিন্নমত ও প্রতিভাগুলো যুক্ত হবে, নতুবা বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকবে।

আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।