মেহেরপুরের কৃষি নির্ভর অঞ্চলগুলোতে জাতীয় রসালো ফল কাঠাল নিয়ে চাষিরা বর্তমানে কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এবছর কাঠালের ফলন ভালো হলেও বাজারে এর দাম না থাকার কারণে অধিকাংশ কাঠাল গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে। অনেক চাষি বিকল্প হিসাবে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে কাঠালের ব্যবহার করছেন।
মেহেরপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, যদি স্থানীয়ভাবে কাঠালের বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব হয়, তাহলে এই সমস্যার সমাধান আসতে পারে। জেলার গ্রামীণ এলাকা, বিশেষ করে সড়কের দুপাশের কাঠাল বাগানে ঝুলে থাকা বড় বড় কাঠালগুলি বিক্রি করতে না পারায় চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। ভ্রাম্যমাণ কাঠাল ব্যবসায়ীরা খুব কম দাম দিয়ে চাষিদের কাছ থেকে কাঠাল কিনে নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাজারে দেখা গেছে, একটি ১৫ থেকে ২০ কেজির বড় কাঠাল মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম না পাওয়ায় অনেক চাষি কাঠাল কেটে গরু ও ছাগলের খাবার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছর কাঠালের দাম ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, কিন্তু এ বছর সেটা পড়েছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায় এবং ততেও বিক্রি করতে কষ্ট হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুরে ১৬৫ হেক্টর জমির কাঠাল বাগান থেকে প্রায় ৫ হাজার ৩শ মেট্রিক টন ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
চাষিরা জানান, বাড়ির উঠানে থাকা কাঠাল গাছে শতাধিক ফল ঝুলে থাকলেও বর্তমানে দাম খুবই কম। অনেকে কাঠাল বিক্রি না করে গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন। একত্রে স্থানীয় সংসদের সদস্য শাহিন আহমেদ বলেন, “এত বড় বড় কাঠাল গাছে পেকে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। বাজার না থাকায় মূল্যও পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ কাঠাল একটি বহুমুখী ফল, যার পাতা থেকে শুরু করে কাঠ সবকিছুই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অতীতে প্রতিটি বাড়িতে কাঠালের গাছ থাকত, কিন্তু এখন অনেকেই গাছ কেটে ফেলছেন।”
একই সমস্যার কথাই জানিয়েছেন বাগানি আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, “গাছে প্রচুর কাঠাল ধরেছে, কিন্তু যখন ব্যবসায়ীর কাছে নিয়ে যাই, তারা কম দাম বলায় না নিয়ে ফিরে আসে। কাঠাল গাছেই পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
কাঠাল বিক্রেতা রইচ উদ্দিন বলেন, “গতবার কাঠাল ৮০ থেকে ৯০ টাকা দামে কিনেছি, এবার কিনছি মাত্র ২০ টাকায়। খরচ যোগ করলে লাভের খাতায় অংশই আসে না। অনেক বাগান মালিক আবার কম দামে বিক্রি না করে গবাদিপশুদের খাবার হিসেবে দিচ্ছেন।”
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ সামসুল আলম বলেন, “কাঠালের উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা কম হওয়ায় বিপণনে সমস্যা হচ্ছে। আমরা কৃষি বিপণন কেন্দ্র ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় বাজার গড়ার চেষ্টা করছি। যদি এটি সম্ভব হয় তবে চাষিরা লাভবান হবেন। আশা করছি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঠালের চাহিদার কথা বিবেচনা করে সেখানে বিক্রি করলে চাষিরা অর্থনৈতিক লাভ পাবেন।”
মেহেরপুরের কাঠাল চাষিরা এখন এক ধরনের সংকটে পড়ে আছেন, যার সমাধানে স্থানীয় বাজার প্রতিষ্ঠা এবং কাঠালের সঠিক মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।








