ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নওগাঁয় আধুনিক সাইলো নির্মাণ বন্ধ, ঠিকাদারের হদিস মেলেনি

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার বা সাইলো নির্মাণ প্রকল্পটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পরে মাটি ভরাটের কাজ প্রায় সম্পন্ন হলেও, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ করেই কাজ থেকে সরে গিয়েছে এবং তাদের সন্ধান মেলেনি। এতে সাইলোর ভবিষ্যত নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা এটিকে জরুরি ও প্রয়োজনীয় প্রকল্পের অর্থ লোপাটের চেষ্টা হিসাবে দেখছেন। খাদ্য সাইলো নির্মাণ না হলে ওই জায়গাটি অন্য যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহারের দাবি তারা করছেন। তবে সাইলোটি নির্মিত হলে, উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসাবে খ্যাত নওগাঁর ১১টি উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য সরকারিভাবে সংগ্রহ করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নওগাঁ জেলা খাদ্যশস্য উৎপাদনে উত্তরের অন্যতম প্রধান জেলা। সেখানে ২০টি খাদ্য গুদাম রয়েছে, যা মোট ৫৮ হাজার ৪৭৫ টন খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা রাখে। এসব গুদামের অধিকাংশ বছরের বেশি অংশ ফাঁকা থাকে। সে পরিস্থিতিতেও সরকার ৪৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার আধুনিক সাইলো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাইলোটি সম্পূর্ণ স্টিল দিয়ে নির্মাণ করা হবে এবং এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ভূমি উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পেয়েছিল ঢাকার মেসার্স চন্দ্রদ্বীপ কনট্রাকশন, রাজশাহীর মেসার্স ডন এন্টারপ্রাইজ এবং নওগাঁর মেসার্স ইথেন এন্টারপ্রাইজ। পরিকল্পনা মতো গত বছরের সেপ্টেম্বরেই মাটি উন্নয়নের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

২০২২ সালের শেষে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর এলাকায় প্রকল্পের জন্য ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এরপর মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয় এবং ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পন্ন হলেও প্রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে ওই জমি বর্তমানে স্থানীয়দের গোচারণ ভূমি ও ফুটবল খেলার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম হয়েছে এবং জমির অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটে দুর্নীতির আশঙ্কা রয়েছে। নওহাটা এলাকার শাহজাহান বলেন, ‘‘জেলায় যথেষ্ট খাদ্যগুদাম রয়েছে, তাই সাইলো নির্মাণের প্রয়োজন ছিল না। এটি তৎকালীন সাবেক খাদ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির উদ্যোগ ছিল। এখন সাইলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। যদি এটি আর সম্ভব না হয়, তবে জমিটি অন্য উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা উচিত।’’

নওগাঁ চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘‘জেলা থেকে প্রতিবছর প্রায় ২৭ লাখ টন ধান উৎপাদিত হয়। সরকারি খাদ্য সংগ্রহের সময় এই গুদামগুলো খালি করে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করতে হয়, যা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। সাইলো নির্মাণ হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে।’’

নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ ফরহাদ খন্দকার জানান, ‘‘মাটি ভরাটের কাজ প্রায় শেষ হলেও, ঠিকাদাররা হঠাৎই কাজ বন্ধ করে চলে গেছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের খোঁজ মেলেনি। ফলে সাইলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে খালি জায়গায় ফলজ গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’’

সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলেও স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সাইলো নির্মাণের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার দাবি এখনো প্রবল। তারা আশা রাখছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প সুসম্পন্ন করে জেলার খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করা হবে।