ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাতের ভোটের ধারণা দেন জাবেদ পাটোয়ারী, উঠে এলেন গুম ও ষড়যন্ত্রের তথ্য

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার শেখ হাসিনাকে রাতে ভোটের ৫০ শতাংশ ব্যালট বাক্স আগেভাগেই ভর্তি করার আইডিয়া দিয়েছিলেন তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের দেওয়া জবানবন্দি থেকে, যা ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পর্যালোচনা হয়েছে। চলতি বছরের ২৪ মার্চ পাঁচ পৃষ্ঠার ওই জবানبন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গুম, নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের সিরিয়াস নির্দেশনা আসত সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে। এসব নির্দেশনা দিতেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকি। এমনকি পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থাকা অবস্থায়ও অনেক গোপন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তার অবগতির বাইরে ছিল।

তিনি আরও বলেন, কাউকে তুলে আনা বা গুম করার মতো গুরুতর বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতেন সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল তারিক সিদ্দিকি, যারা সরাসরি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ কাজগুলো সম্পন্ন করাতেন। আইজিপি হওয়ার পরও তাকে সবকিছু জানানো হতো না।

সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, টাস্কফোর্স ইন্টেলিজেন্স (টিএফআই) সেলে থাকার সময় তার উপর চলা নির্যাতনের কথাও। তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে রাজনৈতিক কারণে ‘জ্বীন’ বলে ডাকতেন তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কারণ হারুনকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অত্যন্ত কার্যকর মনে করা হতো।

তিনি জানান, জুলাই মাসের আন্দোলন দমন করতে মারাত্মক অস্ত্র ও হেলিকপ্টার থেকে গুলির ব্যবহার হয়েছিল, যা ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নেওয়া। তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি পুলিশ প্রধানকে শেখ হাসিনার নির্দেশনার কথা জানাতেন। আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা গৃহীত হত প্রায় প্রতিরাতের বৈঠকে, যা হতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের বাসায়। এসব বৈঠকে অংশ নিতেন দুই জন সচিব, এসবি প্রধান মনিরুল, ডিবির হারুন, র‌্যাবের মহাপরিচালক, আনসারের ডিজি, এনটিএমসির জিয়াউল আহসানসহ অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা।

গত বছরের ১৯ জুলাই থেকে প্রায় প্রতিরাতে এসব বৈঠকে সকল পরিকল্পনা গৃহীত হত বলে জানান আবদুল্লাহ আল মামুন। এ তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাৎক্ষণিকভাবে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন তিনি।