তুরস্কের কোচ হোল্ডিংয়ের প্রধান প্রতিষ্ঠান বেকোর সহযোগী সংস্থা সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেছে তাদের আধুনিক হোম অ্যাপ্লায়েন্স প্ল্যান্ট থেকে প্রথমবারের মতো ওয়্যার হারনেস কম্পোনেন্টের রপ্তানি চালান শুরু। এই প্ল্যান্টটি অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনোমিক জোন (BSEZ)-এ এবং এটি দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে এক উল্লেখযোগ্য উন্নতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বেজার নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ প্রচার) জনাব সালেহ আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জনাব মোস্তাফিজুর রহমান, সিঙ্গার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জনাব এমএইচএম ফাইরোজ, ফ্যাক্টরি ডিরেক্টর জনাব হাকান আলতিনিশিকসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এই প্রথম রপ্তানি চালান বৃহৎ পরিসরের কৌশলগত সাপ্লাই উদ্যোগের সূচনা ঘটিয়েছে, যা হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্পে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থান ও মূল্য শৃঙ্খলে অংশগ্রহণকে আরও মজবুত করবে। সরকারী কর্মকর্তারা এই উদ্যোগকে উদ্ভাবনী শিল্প বিনিয়োগের সফল মডেল হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন এবং বেকোকে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের স্থান আরও সুস্পষ্ট করার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সিঙ্গার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এমএইচএম ফাইরোজ বলেন, “আমাদের মুল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন মানচিত্রে নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এই প্রকল্প আমাদের টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং শিল্প উৎকর্ষতার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”
ফ্যাক্টরি ডিরেক্টর জনাব হাকান আলতিনিশিক আরও যোগ করেন, “শুধুমাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ওয়্যার হারনেস কম্পোনেন্ট রপ্তানি শুরু করা আমাদের টিমের জন্য গৌরবের বিষয়। এটি বাংলাদেশের উচ্চ-মূল্যের উৎপাদন সক্ষমতার একটি নতুন দিগন্ত খুলেছে।”
ওয়্যার হারনেস রপ্তানি প্রকল্পের অধীনে, এই প্ল্যান্ট বেকোর বিশ্বব্যাপী ১৪টি উৎপাদন কেন্দ্রে সাপোর্ট প্রদান করবে, ৫টি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানি করবে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১,০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। মাত্র ১৮ মাসে নির্মিত এবং কম সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করা এই হাই-টেক প্ল্যান্টটি LEED Gold স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নির্মিত, যেখানে সৌরশক্তি ও জিরো-ওয়েস্ট নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি বেকোর টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার এবং ২০৫০ সালের মধ্যে নিট-জিরো নিঃসরণ লক্ষ্য অর্জনের প্রতিফলন।
এই প্ল্যান্টটির মোট বিনিয়োগ ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এটি ১,৩৫,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। বর্তমানে এখানে রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন করছে এবং এরপর যুক্ত হলো ওয়্যার হারনেস সিস্টেম উৎপাদন। সর্বোচ্চ ৯০% স্থানীয় উপাদানে তৈরি পণ্য দিয়ে এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজার সামলাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক কনজ্যুমার ডিউরেবলস উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের বৃহত্তম কনজ্যুমার ডিউরেবলস রিটেইলার, যার রয়েছে ৪৬৩টি রিটেইল স্টোর ও ১,০০০-এর অধিক ডিলার স্টোর। ১৯০৫ সাল থেকে সিঙ্গার এই অঞ্চলে কার্যক্রম শুরু করে এবং বর্তমানে সিঙ্গার, বেকো ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারজাত করে। বেকো এই সংস্থার ৫৭% মালিকানা রাখে, বাকি শেয়ার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মুক্তভাবে লেনদেনযোগ্য।
অন্যদিকে, বেকো হলো একটি বহুজাতিক হোম অ্যাপ্লায়েন্স কোম্পানি, যার শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে ৫৫টির বেশি দেশে। এটি ৫০,০০০-এরও বেশি কর্মী নিয়োজিত করে এবং ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে। ২০২৪ সালে ভলিউম ভিত্তিক বাজার শেয়ারে বেকো ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় হোয়াইট গুডস কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এবং ১০.৬ বিলিয়ন ইউরো বার্ষিক রাজস্ব অর্জন করেছে। বেকো ২৯টি গবেষণা ও ডিজাইন সেন্টার পরিচালনা করে, যেখানে ২,৩০০-এরও অধিক গবেষক কাজ করছেন এবং ৩,৫০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক নিবন্ধিত পেটেন্ট রয়েছে।
বেকো ধারাবাহিকভাবে টেকসই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেয়, ২০২৪ সালে S&P Global Corporate Sustainability Assessment-এ সর্বোচ্চ স্কোর পেয়ে ধারাবাহিক ছয় বছর সেরা অবস্থান অর্জন করেছে এবং Dow Jones Sustainability Indices-এ আট বছর ধাপে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। TIME ম্যাগাজিন ও Statista দ্বারা ২০২৫ সালের বিশ্বের সবচেয়ে টেকসই কোম্পানির তালিকায় বেকো ১৭তম স্থান অধিকার করেছে।
বেকোর ভিশন হলো “বিশ্বকে সম্মান করা, বিশ্বজুড়ে সম্মানিত হওয়া।” এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের নতুন এই অর্জন দেশের বৈশ্বিক উৎপাদন খাতে এক উৎকর্ষের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।









