শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বা দৃষ্টি হারিয়েছেন, তাদের এই মহান ত্যাগ জাতি হিসেবে কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। আমাদের সকলের দায়িত্ব, গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখা।
আজ সায়দাবাদ সংলগ্ন গোলাপবাগ মাঠে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আয়োজন করা ‘‘মাদরাসা রেজিস্ট্যান্স ডে’’ পালন উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জুলাই ২৪ পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আবরার আরও বলেন, ‘‘আমি সেখানে প্রদর্শিত প্রেরণার প্রজন্ম ডকুমেন্টারিটি দেখেছি এবং শুনেছি যা কখনো ভুলে যাওয়া যায় না। প্রতিদিন রাস্তায় হাঁটলে দেয়ালে নানা গ্রাফিতি ও প্রেরণামূলক লেখা দেখতে পাই, যেখানে তরুণরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় আর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমাদের অবশ্যই তাদের এই প্রত্যয় কখনো ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না। এসব লেখা আমাদের প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দেয় অতীতের জুলুম ও নির্যাতনের কাহিনী।’’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘‘একসময় দেশে জঙ্গি নাটক রচনা করে নিরীহ মানুষদের উপর বর্বরতা চালানো হয়েছিল। সেই সময় আমরা হতাশ ছিলাম এবং মনে করেছিলাম স্বাধীনভাবে চলা কঠিন। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের নতুন ও স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার পথ প্রশস্ত করেছে।’’
অনুষ্ঠানে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘পুরোনো শাসনামলে আলেম সমাজ গুম, খুন, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। দাড়ি-টুপি থাকলেই তাদের গ্রেফতার করা হতো। ১৯৭৫ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদরাসার ছাত্র ও আলেম সম্প্রদায়ের অসামান্য আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা সকল সময় মনে রাখতে হবে। তখন ছাত্র, কৃষক ও শ্রমিক সহ সর্বস্তরের জনগণ রাজপথে নেমে ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রতিবাদ গড়ে তোলে, যার ফলে ফ্যাসিবাদ নির্মূল হয়। এই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী ছিল অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।’’
অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘‘মাদরাসা রেজিস্ট্যান্স ডে’’ পালিত হয়, যা ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।








