ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার

অধিগ্রহণকৃত জমির ব্যবহার নির্দিষ্ট কাজের জন্য সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং অন্য কোনো কাজে এই জমি ব্যবহার করা যাবে না। যদি জমি ব্যবহৃত না হয়, তবে তা জেলা প্রশাসকের কাছে ফেরত দিতে হবে। অধিগ্রহণ করা অব্যবহৃত ও বেদখল জমি পুনরুদ্ধার করা এখন সময়ের একান্ত প্রয়োজন। আমাদের ভূমির পরিমাণ প্রতিনিয়ত কমে আসছে, তাই জমির সঠিক এবং কার্যকর ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একসময় জেলা, উপজেলা ও গ্রামের পোস্ট অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ এবং টেলিগ্রাফ অফিস ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেসব প্রতিষ্ঠানের জমি কোথায় তা অনিশ্চিত। এসব জমি উদ্ধার করে অন্তত বনায়ন করা হলেও তা সরকারের দখলে থাকবে। এই ধরনের জমি পুনরুদ্ধার এবং ব্যবহারের জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, এ কথা জানিয়েছেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

আজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ভূমি উপদেষ্টার সভাপতিত্বে ‘অধিগ্রহণকৃত অব্যবহৃত ও বেদখল জমি ব্যবহার ও পুনরুদ্ধার’ সম্পর্কিত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ভূমি উপদেষ্টা আরও বলেন, অব্যবহৃত ও বেদখল জমি উদ্ধার করা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। এতে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, খাদ্য নিরাপত্তা বাড়বে, ভূমি রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং পরিকল্পিত নগরায়ণে ইতিবাচক প্রভাব পরবে যা মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান উল্লেখ করেন, অধিগ্রহণকৃত অব্যবহৃত ও বেদখল জমির সঠিক তথ্য জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া মন্ত্রণালয় ও এর অধিদপ্তর থেকেও সংশ্লিষ্ট তথ্য নেওয়া জরুরি। উভয় উৎসের তথ্য ক্রস চেক করলে বাস্তবিক হিসাব পাওয়া যাবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমির প্রয়োজনে কেনাকাটা হলেও নামমাত্র মূল্যে নয়, প্রকৃত মূল্য দিয়ে কেনা উচিত। প্রয়োজনে আইন সংশোধন ও নীতিমালা প্রণয়ন করাই সময়োপযোগী হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, অর্পিত ও শত্রু সম্পত্তির ক্ষেত্রে আইনজীবী নিয়োগে আরও শর্তাবলী আরোপ করতে হবে। নাহলে এই জমিগুলো সব বেদখল হয়ে যেতে পারে। ঢাকা শহরের কয়েক হাজার অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে, যাদের অধিকাংশই এখন বেদখলে রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনজীবীদের সম্মানী খুবই কম, যা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে কো-অপ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ এর নেতৃত্বে ‘স্টক টেকিং’ কমিটি এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক এর নেতৃত্বে ‘ব্যবহার সংক্রান্ত’ কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়াম, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উক্ত সভায় ভূমি ব্যবহারের সঠিকতাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ।