ঢাকা | সোমবার | ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আনে প্রকৃত সংস্কার: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরা জোর দিয়ে বলেছেন, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া কোনো প্রকৃত ও স্থায়ী সংস্কার সম্ভব নয়। তিনি বললেন, সঠিক গণতান্ত্রিক কাঠামো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে পরিবর্তনের যে স্বপ্ন তা পূরণ হতেই পারে না।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) ‘জুলাই অভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকালে ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন এমন কারো প্রতি যারা মনে করে রাতারাতি বা কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে সংস্কার সম্পন্ন করা যায়। তার মতে, সংস্কার একটি ধাপে ধাপে গৃহীত প্রক্রিয়া, যা সময় ও ধৈর্যের দাবি রাখে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘‘সরকার যদি ভাবতে চায় যে কাল থেকে পুলিশ হেফাজতে ঘুষ নেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, তাহলে তা সম্ভব নয়। বরং এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে যা ঘুষ নেওয়া ও দিতেই উৎসাহ দিবে না।’’

আলোচনা সভাটি জিয়া পরিষদ আয়োজিত হয়েছিল, যা গত বছর সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির স্মরণে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

ফখরুল দেশের উন্নয়নের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেশের আমলাতন্ত্রকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের আমলাতন্ত্র উন্নয়নের বড় বাঁধা। এটা একটি নেতিবাচক ব্যবস্থা যা ইতিবাচক কাঠামোতে রূপান্তরের অতীব প্রয়োজন। এর জন্য জনগণকে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’’

তিনি আরও তুলে ধরেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব জনগণের পাশে ফিরে যাওয়া, তাদের চাহিদাগুলো বোঝা এবং সেগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা।

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রতিশ্রুতি ও সমালোচনার প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘‘আমরা যখন নির্বাচন নিয়ে কথা বলি তখনই বলা হয় বিএনপি শুধুমাত্র নির্বাচন চায়। কিন্তু কেউ ভেবে দেখেছে কি আমরা কী কারণে নির্বাচন চাচ্ছি?’’

তিনি ব্যাখ্যা দেন, ‘‘নির্বাচন ছাড়া প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচন সম্ভব নয়। এবং যদি নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকে, তাহলে তারা সংসদে কীভাবে যেতে পারবে? সংসদ না থাকলে কীভাবে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে?’’

ফখরুলের মতে, ‘‘দেশ পরিচালনার জন্য বাড়ি বা বিদেশ থেকে কয়েকজন লোক ভাড়া করে আনা সম্ভব নয়। স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিই দেশের সুষ্ঠু শাসন ও উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।’’