ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স নিয়ে রিভিউ রায়ের ঘোষণা আজ

আজ দেশে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদবীর অবস্থান নির্ধারণকারী ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স বিষয়ক রিভিউ রায়ের ঘোষণা করা হবে। গত ৩০ জুলাই, জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ রিভিউয়ের শুনানির পর ৬ আগস্ট রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। তবে গতকাল বুধবার সর্বোচ্চ আদালত রায়ের জন্য নতুন করে ৭ আগস্ট তারিখ ধার্য করেছেন।

রিভিউ আবেদনের পক্ষ থেকে আদালতে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পক্ষে ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দিন দোলন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ব্যারিস্টার নিহাদ কবির ও অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এম. আবদুল কাইয়ূম শুনানি করেন। এছাড়া ইন্টারভেনর হিসেবে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল) অংশ নেন।

১৯৮৬ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ‘‘রুলস অফ বিজনেস’’ অনুযায়ী ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তৈরি এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তা জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এটি সংশোধিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তুলনায় সাংবিধানিক পদ ও সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত পদগুলোকে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে নীচে রাখা হয়েছে – এই অভিযোগে ২০০৬ সালে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব মো. আতাউর রহমান হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।

২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ওই ১৯৮৬ সালের (সংশোধিত) ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে আট দফা নির্দেশনা দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আপিল করেন। আপিল শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেন, যেখানে হাইকোর্টের আট দফা নির্দেশনার মধ্যে কয়েকটি সংশোধন করা হয় এবং তিন দফা নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ১) দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান অনুসারে বিরোধপূর্ণ ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে সাংবিধানিক পদধারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। ২) জেলা জজ ও সমমানের জুডিশিয়াল সার্ভিস সদস্যরা সরকারের সচিবদের সাথে ১৬ নম্বর ক্রমিকে অবস্থান করবেন। ৩) জেলা জজদের পরেই অতিরিক্ত সচিবগণ ১৭ নম্বর ক্রমিক অবস্থানে থাকবেন।

অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আপিল বিভাগের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করে, যেখানে ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরাও পক্ষ হিসেবে যুক্ত হন। আজ সর্বোচ্চ আদালত এই রিভিউ আবেদনের ওপর রায় ঘোষণা করবেন যা দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও বিচারিক কর্মকর্তাদের পদমর্যাদার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বিতর্কের সমাধান নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।