মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য থেকে ইরানে আটকে থাকা ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি এই তথ্য জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সোমবার (৩০ মার্চ) জানান এবং পাশাপাশি দেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করেন।
এই মন্তব্য তিনি সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরে বলেন, জ্বালানি বিক্রয় নিয়ে বিরোধের কারণে দেশে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে — এই পরিস্থিতি নিরসনে প্রধানমন্ত্রী কী ভূমিকা নিচ্ছেন তা জানতে চান তিনি। তিনি পাশাপাশি এমন সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফরকে টেনে নিয়ে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। এসময় স্পিকার তাকে একসঙ্গে কেবল একটি প্রশ্ন করার নিয়মেও স্মরণ করিয়ে দেন।
জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রথমে সংসদ সদস্যকে অনেক নির্যাতনের পর সংসদে আসায় অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেন, উনি একজন ব্যারিস্টার; তাই তাঁর সম্পূরক প্রশ্নের অর্থ বোঝা উচিত ছিল। এরপর তিনি জ্বালানি বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, এই মুহূর্তে দেশে জ্বালানি সংকট নেই—এই দাবির বিরুদ্ধে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা কড়া প্রতিবাদ জানান।
শামা ওবায়েদ আরও জানান, জ্বালানি নিরাপদ ও বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করতে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্যান্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করাকে কেন্দ্র করে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ইনশাআল্লাহ সফল হবে বলে তিনি আশার কথা জানান।
মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশের নাগরিকদের সুরক্ষার ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সেখানে বসবাসরত আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারিভাবে প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার। সেখানে থাকা বাংলাদেশের মিশনগুলো ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
দুর্ভাগ্যবশত চলমান সংঘাতে মোট পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, তাদের মধ্যে দু’জনের মরদেহ ইতোমধ্যেই দেশে পৌঁছে দেওয়া গেছে। তিনি আরও উদ্বেগ জ্ঞাপন করে বলেন, অনেক সময় মানুষেরা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারেন না তারা কোন সময় বা কোন স্থানে যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে ঢুকে পড়ছেন। এমন জটিল পরিস্থিতিতেও তেহরান থেকে আইওএম-এর সহায়তায় ১৮৬ জনকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন যে পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারী প্রথম অগ্রাধিকার। সংসদে আলোচনায় এই বিষয়গুলো উঠে আসায় তিনি দেশের নাগরিকদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।








