ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতিপূর্ণ প্রকল্পের অর্থ ছাড়ে ‘তদবির’, দুদকে চিঠি

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে চরম দুর্নীতির খবর সামনে এসেছে, যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। সেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ ছাড়ে অনৈতিক চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক তদন্ত বন্ধ করার জন্যও একটি চিঠি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এই ঘটনায় টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষত বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি (বিটিসিএল) পরিচালিত ফাইভজি রেডিনেস প্রকল্পটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। প্রায় ৩২৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ঠিকাদারি নিয়োগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সাবেক মন্ত্রী ও সচিবের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, যেখানে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। এক পর্যায়ে সাবেক মন্ত্রী একটি বৈঠকে টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে আহ্বান করেন, কিন্তু সাবেক সচিব ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একদিনের মধ্যে বিটিসিএল বোর্ড সভা ডেকেই চীনের একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেন।

জুলাইয়ের অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে ফাইভজি রেডিনেস প্রকল্পে নানা অনিয়মের তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়, যেটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে রিপোর্ট জমা দেয়। তদন্তে দেখা যায়, সাবেক সচিবসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ রয়েছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ উপেক্ষা করে প্রকল্পে অযৌক্তিকভাবে ক্ষমতা ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়ম লঙ্ঘন এবং অনৈতিক হস্তক্ষেপের তথ্যও সামনে এসেছে।

তদন্ত রিপোর্ট সত্ত্বেও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি গোপন রাখতে চেষ্টা করেছেন এবং দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। ২১ এপ্রিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে দুদকের মহাপরিচালককে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যাতে তদন্ত চলাকালীন প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বিল পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারখানা পরিদর্শনের অনুরোধ করা হয়। এরপর ১৮ জুন দুদক জানায়, তারা প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে।

তারপরও, ২২ জুন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টা ওই প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের জন্য দুদকের কাছে একটি ডিও চিঠি দেন। সেখানে দীর্ঘ মেয়াদে প্রকল্প চালু রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে বিস্তৃত খোঁজে জানা যায়, বিটিসিএলের ফাইভজি প্রকল্পের সক্ষমতা ও রক্ষণাবেক্ষণ সময় অত্যধিক বাড়িয়ে প্রকল্প ব্যয় দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বাস্তবসম্মত নয়।

এর আগে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চটকদার নামে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গড়ে তোলা হতো লুটপাটের জন্য, যার মধ্যে ফাইভজি রেডিনেস প্রকল্পও একটি। তবে বিটিসিএল ইতিমধ্যেই একাধিক টেলিযোগাযোগ অপারেটরের জন্য ফাইবার নেটওয়ার্ক নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। এই দুর্নীতিকর চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।