আজ বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস নির্মূলের লক্ষ্যে ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’ উদযাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও এই দিনের গুরুত্ব স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস দিবস উপলক্ষে বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উদযাপিত হচ্ছে, এ কথা জানিয়ে আমি আনন্দিত। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আসুন এটি ভেঙে ফেলা যাক।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, লিভার রোগ সম্পর্কে দুর্বল জ্ঞান, সময়মতো চিকিৎসার অভাব এবং নানা ধরনের কুসংস্কারের কারণে দেশে লিভার রোগের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৪ শতাংশ হেপাটাইটিস-বি এবং ০.৬ শতাংশ হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এই রোগ, লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সার এবং লিভার ফেইলিওর এর কারণে জীবন হারান।
তবে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এসব রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করা যায়। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানানো হয়েছে।
২০০৮ সালের ২৮ জুলাই প্রথমবার ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস অ্যালায়েন্স’ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়। ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এর পর থেকে প্রতিবছর জুলাই মাসের ২৮ তারিখে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত এই ১১টি বিশ্বজনস্বাস্থ্য প্রচারণার অন্যতম একটি হল বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। নোবেল বিজয়ী বারুচ স্যামুয়েল ব্লুমবার্গ যিনি হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস আবিষ্কার করেছিলেন, তার জন্মদিন ২৮ জুলাই মনোনীত হয়েছে এই দিবস হিসেবে।
বিশ্বজুড়ে আজ বিভিন্ন বিনামূল্যের স্ক্রিনিং, টক শো, সচেতনতা প্রচার, কনসার্ট এবং টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব হেপাটাইটিস অ্যালায়েন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনও প্রকাশ করে থাকে।








