বিয়ে, ডিভোর্স ও পুরনো-নতুন সম্পর্কের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের গল্প নিয়েই কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের কালজয়ী ছবি ‘অর্ধাঙ্গিনী’ তিন বছর আগে দর্শক-সমালোচক উভয়েরই প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সেই সফল ছবির বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল এসে যাচ্ছে—’আজও অর্ধাঙ্গিনী’। কলকাতার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ছবিটির অফিসিয়াল ট্রেইলার ইতোমধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে এবং তা সম্পর্কের এক জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ ধাঁধা উন্মোচন করছে। ট্রেইলারে দেখা মিলে ওপার বাংলার চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও কৌশিক সেনকে; এপার বাংলার জয়া আহসানকে পেছনের প্লটের কেন্দ্রে রেখে নির্মাতা আবারও তীব্র মানসিক সংঘাত তুলে এনেছেন।
ট্রেইলারের সূত্র ধরে জানা যায়, ছবির কেন্দ্রীয় কাহিনি তিনজনের — মেঘনা (জয়া আহসান), তার স্বামী সুমন (কৌশিক সেন) এবং সুমনের প্রথম স্ত্রী শুভ্রা (চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়)। সিক্যুয়েলে প্রতিটি চরিত্রকে এক কঠোর মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে। মেঘনা অনুভব করেন এক গভীর অব্যক্ত নিরাপত্তাহীনতা; বারবার মনে হয়, পরিবারে কেউ সরাসরি কিছু না বললেও সুমন সব সময় তাকে তার পূর্ববর্তী স্ত্রীর সঙ্গে তুলনা করছেন।
অন্যদিকে সুমনের ভেতরের দ্বন্দ্বও কমঝুঁকিপূর্ণ নয়। তিনি যদিও মেঘনাকে বিয়ে করে নতুন সংসার গড়েছেন, তবু অতীতের স্মৃতি ও পুরনো সম্পর্কের ছায়া বারবার তার বিবেক কাঁটে—ফলতঃ তিনি মানসিকভাবে স্থির বোধ করেন না। এই টানাপোড়েনই গল্পে নতুন জটিলতা নিয়ে আসে, যখন সম্পর্কের স্বচ্ছতা প্রশ্নচিহ্নের মধ্যে পড়ে।
ট্রেইলারের চরম মুহূর্তগুলোতে দেখা যায়, মেঘনা স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা বা বিশ্বাসঘাতনার গুরুতর অভিযোগ নিয়ে নিজে হাতে সাবেক স্ত্রীর দরজায় হাজির হয়। সেখানে সেটা সাহায্য-অন্বেষণ না হয়ে হতেই ওঠে নতুন প্রশ্ন ও তীব্র টানাটানি। শুভ্রার কাছে আশ্রয় চাইলেও মেঘনার কাছে তাত্ক্ষণিক সান্ত্বনা বা পূর্ণ সমর্থন মিলছে না; ফলে পুরনো অনুভবগুলো আবার জ্বলতে থাকে।
তিন বছর আগের অলস ও অমীমাংসিত আবেগ নিয়ে দাঁড়িয়ে এই ‘ভয়ংকর পুনর্মিলন’ কিভাবে শেষ হয়, সম্পর্কের টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়—এই নিয়েই ছবি দর্শককে বেঁধে রাখবে বলে ট্রেইলার থেকে ধারণা যায়। জয়া আহসান ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত এবং কৌশিক সেনের সংবেদনশীল আবেগের খেলা রূপালি পর্দায় দেখার জন্য দর্শকরা বিশেষভাবে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।








