ঢাকা | রবিবার | ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

আদানি ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফরোয়ার্ড রেট’ চুক্তি অনুমোদন

বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হারের আকস্মিক ওঠানামার প্রভাব থেকে আমদানিকারকদের সুরক্ষার জন্য ঐতিহাসিক এক উদ্যোগ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে ইউজেন্স (নির্দিষ্ট সময় পর পণ্যের জন্য অর্থ পরিশোধ) আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারক ও সরবরাহকারী সুদের হার আগাম নির্ধারণ করতে পারবে — অর্থাৎ ‘ফরোয়ার্ড রেট’ চুক্তি করা যাবে।

এই ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য মার্কিন ডলারের ভিত্তিক সুদের সূচক SOFR-সহ বৈশ্বিক সুদ হারের অস্থিরতার কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক ঝুঁকি হ্রাস করা। ফরোয়ার্ড রেট চুক্তি মূলত একটি হেজিং টুল; এর মাধ্যমে আমদানিকারক ও ব্যাংক নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ সময়ে প্রযোজ্য সুদের হার আগেই স্থির করে নিতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয়ের চাপ না পড়ে।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে এই চুক্তিগুলো শুধুমাত্র প্রকৃত আমদানি লেনদেনের ঝুঁকি প্রশমনের জন্যই ব্যবহার করা যাবে; সেগুলোকে সpekুলেশন বা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। ব্যাংকগুলোর জন্য কিছু শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে—চুক্তিতে ব্যাংকের মার্জিন সর্বোচ্চ ১০ বেসিস পয়েন্ট হতে পারবে এবং কোনো ব্যাংক তাদের গত ১২ মাসের গড় মাসিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ২৫ শতাংশের বেশি সুবিধা এই চুক্তির আওতায় আনতে পারবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে যে ব্যাংকগুলো অবশ্যই একই দিনে সমান্তরাল লেনদেনের মাধ্যমে নিজেদের বাজারঝুঁকি পুরোপুরি সমন্বয় করবে, যাতে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ব্যাংকের বদলে লেনদেনের পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে না থাকে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানসম্মত চুক্তি কাঠামো গ্রহণ ও শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা বজায় রাখার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো চুক্তি আগাম সমাপ্ত হলে তা প্রচলিত বাজারদরে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং সকল প্রাসঙ্গিক দলিল সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তাদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে এই পদক্ষেপ আমদানিকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে, খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ব্যয়ের অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এটি দেশে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আর্থিক ডেরিভেটিভস বাজারের বিকাশে একটি বড় ধাপ হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণ ও সুস্পষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমে এই নতুন ব্যবস্থার ফলে আমদানি বাণিজ্যে আর্থিক স্থায়িত্ব বাড়তে পারে এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও নিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাবে।