ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আমের পচন রোগে চাষি ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও হতাশা

চলতি মৌসুমের শুরুতে সরব না হলেও, মেহেরপুর জেলার আম চাষে অজানা এক পচন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পরিপক্ব আম গাছ থেকে ফল সংগ্রহের মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই ডাঁটার দিক থেকে আম পচতে শুরু করেছে, যার ফলে আম দ্রুত খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

এই পরিস্থিতি আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলা জুড়ে মোট ২৩৬৬ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়, যেখানে এ বছরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫,৫১০ মেট্রিক টন। যদি মাত্র এক হাজার মেট্রিক টন আমই পচে যায়, এবং প্রতি মনের দাম ১৫০০ টাকা ধরা হয়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই রোগটি ছত্রাকজনিত ‘স্টেম-এন্ড রট’ রোগ বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা গাছে থেকেই পচন শুরু করে। গাছ থেকে আম সংগ্রহের পর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই আম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মেহেরপুরের বিভিন্ন বাজার ও বাড়িতে আম কিনে নিয়ে যাওয়ার দুই দিনের মধ্যে পচন শুরু হওয়ায় অনেক ক্রেতাই আম ফেলে দিচ্ছেন। গড়পাড়ার বাসিন্দা শিখা বেগম জানান, বাজার থেকে হিমসাগর আম কিনে এনেছিলাম, দু’দিনের মাথায় সব পচে যায় এবং বাধ্য হয়ে ফেলে দিতে হয়।

জেলার গাংনী উপজেলার নিশিপুর গ্রামের আম বাগান মালিক হোসেন আলী জানিয়েছেন, আম গাছে কালো আবরনের মত আঘাত পড়ছে এবং আম পাড়ার পর দুই এক দিনের মধ্যেই পচে যাচ্ছে। তিনি আশা করেছিলেন শেষ সময়ে আমের দাম কিছুটা বাড়বে, কিন্তু বর্তমানে পচনের কারণে সবটাই নষ্ট হচ্ছে।

আম ব্যবসায়ী সিহাব জানান, তারা বাগান মালিকদের কাছ থেকে আম সংগ্রহ করেন, তবে বাগানে পাওয়া আম ভালো থাকার পরেও বিক্রির সময় পচে যাওয়ার কারণে লোকসানে পড়তে হচ্ছে। বিশ কেজি আমে প্রায় দুই কেজি পচা আম বের হচ্ছে, যা ব্যবসা চালানো কঠিন করে দিচ্ছে।

আম ক্রেতা রাজিবুল হক বলেন, তিনি বাড়ির জন্য তিন দিন আগে কাচা ও পাকা আমের মিশ্রণ নিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু এর অধিকাংশ আম পচে গেছে যা হতাশাজনক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামসুল আলম বলেন, আবহাওয়া ও ছত্রাকজনিত কারণে এই ‘স্টেম-এন্ড রট’ রোগ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, গাছে থাকা আম সংগ্রহের অন্তত ১৫ দিন আগে থেকে ওষুধ প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হয়। তবে আপাতত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া না যাওয়ায় মাঠে কারিগরি টিম পাঠানো হয়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতের মৌসুমগুলোতেও আম উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ জরুরি। মেহেরপুরের হিমসাগর আম যা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত, তা রপ্তানির ক্ষেত্রেও প্রভাবিত হতে পারে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আম রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লেগে যেতে পারে।