চলতি বছর অতি গুরুত্বপূর্ণ এক মহাজাগতিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে – পূর্ণ গ্রাস সূর্যগ্রহণ। এই বিরল ঘটনা আগামী ১২ আগস্ট ঘটবে, এবং এটি ইউরোপের অনেক অংশের আকাশে দৃশ্যমান হবে বলে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা নিশ্চিত করেছে। আকাশপ্রেমীরা এই ইতিহাসের অনন্য দৃষ্টিজ্ঞানে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) বিজ্ঞান পরিচালক ক্যারোল মুন্ডেল বলেছেন, এমন বিরল মুহূর্তের জন্য কোটি কোটি মানুষ একসঙ্গে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবেন, বিস্মিত ও কৌতূহলী হয়ে।
কখন এবং কোথায় দেখা যাবে?
আগামী ১২ আগস্ট, চাঁদ সরাসরি সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে অবস্থান নেবে। এর ফলে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর ও ইউরোপের কিছু অংশে সূর্য সম্পূর্ণরূপে ঢেকে যাবে, যেখানে দেখাটা সম্ভব হবে। বিশেষ করে, পূর্ব গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চল, স্পেনের উত্তরাঞ্চল এবং পর্তুগালের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের কিছু এলাকা থেকে এই সূর্যগ্রহণ পুরোপুরি দেখা যাবে।
নাসা জানিয়েছে, ইউরোপের বেশিরভাগ অংশ, উত্তর অমেরিকার উত্তরাংশ এবং আফ্রিকার উত্তর-উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে এই সময় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। অর্থাৎ, এই এলাকাগুলোর বিশাল অংশ সূর্য কিছুটা অর্ধেক বা আংশিকভাবে ঢেকে থাকবে।
বাংলাদেশ, ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলিতে এ ঘটনা দেখা যাবে না, কারণ সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকানো এই গ্রহণপথ তাদের দিকে পড়বে না। তবে, সূর্যকে এই পর্যবেক্ষণে জন্য বিভিন্ন নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছে বিজ্ঞানীরা। সাধারণত, সূর্য দুই মিনিটের কম সময়ের জন্য পুরোপুরি ঢেকে থাকতে পারে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ধীরে ধীরে এই সময় বাড়লেও বেশিরভাগ এলাকাতেই গ্রহণের সময় এই সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। মূলত, গ্রিনল্যান্ড, রাশিয়া বা উত্তর আটলান্টিকের কাছাকাছি স্থান থেকে এই প্রক্রিয়া কিছু বেশি সময় ধরে দেখা যাবে।
পূর্ণ গ্রহণের সময় সূর্য খালি চোখে দেখাও সম্ভব হবে, তবে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময় সূর্যের চারপাশে হালকা আলো ও একটি মৃদু বলয় দেখা যাবে, যা চোখের ক্ষতি করতে পারে। তাপমাত্রায় সামান্য পরিবর্তন ও আকাশের অন্ধকারাচ্ছন্ন ভাব দেখা যেতে পারে, যেমনটি ঘটে সাধারণত গণ্য। সেই জন্য, বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন, কখনোই খালি চোখে সরাসরি সূর্য দেখবেন না। এর জন্য বিশেষ নিরাপদ সৌর ফিল্টার বা সৌর দর্শন চশমার ব্যবহার আবশ্যক। বিশেষ সৌর দর্শন চশমা বা অন্য নিরাপদ যন্ত্র সূর্যের অধিকাংশ আলো আটকাতে পারে, যাতে চোখে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
নাসা বলছে, এই বিরল দৃশ্যের আগে, সময়ের পূর্বে ও পরে চোখের সুরক্ষার জন্য অবশ্যই সুরক্ষা চশমা পরতে হবে। সূর্য পুরোপুরি ঢাকা থাকাকালে এই ব্যস্ততার মধ্যেও বিশেষ সুরক্ষা চশমা খুলে দেখার আহ্বান জানাচ্ছে বিজ্ঞানী। যখন সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ঢেকে যাবে, তখনই এই সুরক্ষা ব্যবহার করতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যের বিরল দৃষ্টিপাত উপভোগ করা সম্ভব হবে, তবে সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।








