ঢাকা | শনিবার | ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ইরান-সংঘাতের মধ্যে আল-আকসায় শুক্রবারের জুমা বন্ধের ঘোষণা

ইরানকে কেন্দ্র করে বিদ্যমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমার নামাজ বাতিল করে দেয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে এই তৃতীয় পবিত্র স্থানটিতে আরোপিত বিধিনিষেধের ধারাবাহিকতা মেনে নেয়া নতুন সিদ্ধান্তটি মুসলিম সমাজে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইসরায়েলের সিভিল প্রশাসনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) জানিয়েছেন, ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও ইসরায়েল ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, জেরুজালেমের ওল্ড সিটির সমস্ত পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে এবং কোনো ধর্মগ্রূহ বা সাধারণ মানুষের সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

গত শনিবার ইসরায়েল ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে বলে খবরে বলা হয়েছে। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারী ওমান জানিয়েছিল, ইরান যদি পারমাণবিক বোমার জন্য প্রয়োজনীয় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম না রাখার বিষয়ে সম্মত হত, তাহলে একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি ছিল। তবে পরবর্তীতে সংঘাত দ্রুত তীব্র রূপ ধারন করে।

এ পর্যন্ত ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় এক হাজার দুইশত ত্রিশ (১,২৩০) জন—যোগাযোগ সূত্রে এই সংখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। বর্তমানে সেখানে শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকান-মালিকদের সীমিতভাবে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে; তাছাড়া পবিত্র স্থানগুলোতেও ধর্মীয় অনুষ্টান সীমিত করার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে।

আল-আকসা মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম ইকরিমা সাবরি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, দখলদার কর্তৃপক্ষ কোনো অজুহাতে আল-আকসা বন্ধ করে দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনিরপেক্ষ এবং অযৌক্তিক। তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় আচরণ ও উপাসনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার কাছাকাছি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

ইসরায়েল নিরাপত্তার কারণ দেখালেও রমজান শুরুর পর থেকেই আল-আকসায় নামাজ আদায়ের ওপর ইতোমধ্যেই কড়াকড়ি বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডানপন্থী ইসরায়েলি রাজনীতিক ও বসতি স্থাপনকারীদের নিয়মিত সফর, বিশেষ করে আল-আকসা প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এমনকি ইহুদিদের নামাজের অধিকার দেয়ার দাবি উত্থাপন করেছেন এবং মসজিদের স্থলে উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার কথাও বলেছেন—এসবই পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করেছে।

পটভূমিতে উল্লেখ্য, জেরুজালেমের পুরোনো শহর অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল ওই অঞ্চল দখল করার পর একতরফাভাবে সেটি নিজের সঙ্গে যোগ করেছিল, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ দেশের দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ ও নিন্দার সুর শোনা যাচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা।